আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৮:২১

বার : মঙ্গলবার

ঋতু : হেমন্তকাল

অপূর্ব ছোট্ট এক শেখ রাসেল এর গল্প।

সিলেট নিউজ ডেস্ক – রাসেলের নামকরনের রয়েছে একট মজার পটভূমি। বাবা বঙ্গবন্ধু ছিলেন ভীষন মেধাবীও পড়ায় ও পারদর্শী। জেলে বসেও প্রচুর পড়াশোনা করতেন তিনি। দার্শনিক বার্টান্ড রাসেল ছিল বঙ্গবন্ধুর খুব প্রিয় একজন লেখক। বঙ্গবন্ধু মাঝে মাঝে শেখ রাসেলের মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন বার্টান্ড রাসেলের দার্শনিকতা। এসব শুনে রাসেলের ভক্ত হয়ে ওঠেন মা এবং ছোট্র সন্তানের নাম রেখে। জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ খ্রিঃ শৈশবে রাসেল ছিল ব্ঙ্গবন্ধুর সর্বকনিষ্ঠ ছেলে, তাই পরিবারে আদর একটু বেশিই ছিল, তোমাদের যেমন বাড়ির সবাই আদর করে তোমাদের মতো তারও ছিল এক দুরন্ত শৈশব, হাসত, খেলত,গল্প করত। বাবা তার দেশের কাজে ভীষণ ব্যাস্ত, মিটিং, মিছিল, কখনও আবার বদ্ধ জেলখানা। তাই বাবাকে কাছে পেত না তেমন বেশি। তার বাবা বঙ্গবন্ধু তাকে ভালোবাসতেন খুব। বাসায় ফিরে ঘরে ঢুকে বাবা প্রথমেই খুঁজতেন ছোট্র রাসেলকে। রাসেল, রাসেল বলে ভরাট কন্ঠে ডাক দিতেন তার নাম ধরে। রাসেল ও বঙ্গবন্ধুকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন। বাবাকে কাছে পাওয়ার জন্য, বাবার কোলে চড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতেন সব সময়।

বাবার ডাক শোনার সাথে সাথেই এক দৌঁড়ে ছুটে আসত বাবার কাছে অনেক্ষণ পর বাবাকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরত, কিংবা উঠে পড়ত কোলে। বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে নিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন পরম আদরে। বাবার চশমাটাকে দারুন লাগত তার, তাই সেটা বাবার চোখ থেকে খুলে নিজের চোখে লাগিয়ে নিতে বেশ মজা লাগত রাসেলের। গল্প শুনতে খুবই ভালোবাসত শেখ রাসেল। বাবা অবসরে থাকলেই গল্প শোনানোর জন্য আবদার জুড়ে দিত, তোমরা যেমন বাবার কাছে বায়না ধর। বঙ্গবন্ধুও সময় পেলে বেশ আগ্রহ নিয়ে গল্প শোনাতেন ছোট্র রাসেলকে। রুপকথার গল্প অবশ্যই নয়, বাবা শুনাতেন একটি নিপীড়িত দেশ ও তার মানুষ এবং সংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতা অর্জনের গল্প। এসব গল্প শুনে হয়তো রাসেলেরও ইচ্ছা জাগত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার, যুদ্ধ করে দেশটাকে স্বাধীন করার। রাসেলও গল্প শোনাত তার বাবাকে। রাসেল কথা বলত খুব মজা করে। বরিশাল, ফরিদপুর ও ঢাকার আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দু মিশিয়ে শিশু সুলভ কথা বলত রাসেল। শিশুদের কথাতো শুনতে ভালই লাগে। রাসেলের ক্থা বলার ভাষা শুনে বাবা বঙ্গবন্ধু হেসে ইঠতেন, চেষ্টা করতেন জগাখিচুড়ি ভাষায় জবাব দিতেন। এত ব্যাস্ততার মাঝেও বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠতেন একজন প্রিয় পিতা। পিতা পুএের আনন্দঘন আড্ডায় পুড়ো বাড়ি যেন স্বর্গ হয়ে বাড়িটা থাকত নীরব, রাসেলেরও থাকত মন খারাপ। তাই মা রাসেলের মন ভালো রাখার জন্য বুদ্ধি করে কিনে দেন একটি তিন চাকার সাইকেল। ছোট মানুষ , দুই চাকার সাইকেল চালানোর বয়স তো তখনো হয়নি তার।

মায়ের কিনে দেওয়া সাইকেলটা নিয়ে সারাদিন খেলায় মেতে থাকত রাসেল। বাড়ির উঠোনের এ কোন থেকে ও কোনে সাইকেল চালিয়ে বেড়াত সে। রাসেল কেমন বুদ্ধিমান ছিল জানো? বাসায় একটা ছোট খাটো লাইব্রেরি ছিল। লাইব্রেরির বই থেকে বোনরা তাকে গল্প পড়ে শোনাত। একই গল্প কদিন পর শোনানোর সময় দু- এক লাইন বাদ পড়লে সে ঠিকই ধরে ফেলত। বলত ও, সেই লাইনটা পড়নি কেন? রাসেল মায়ের কাছে দেখে বাড়ির কবুতর গুলোকে খাবার দিত, কিন্তু কবুতরের মাংস খেতনা। মজার, তাই না? আসলে রাসেল ছিল বাবার মতোই সাহসী এবং মানুষ ও প্রানীদের ও ভালোবাসতেন। ওর একটা টমি ছিল টমির সঙ্গে ছিল খুব বন্ধুত্ব। তোমাদের মতো রাসেল ও তার পোষা টমির সঙ্গে খেলা করত। একদিন খেলার সময় টমি জোরে ঘেউ ঘেউ করে ডেকে উঠলে, রাসেল ভয় পেয়ে যেতেন, কাঁদতে কাঁদতে ছোট আপাকে বলতেন টমি বকা দিচ্ছে। অথচ রাসেল নিজের খাবারের ভাগও দিত টমিকে। আর সেই টমি তাকে বকা দিয়েছে। এটা ছোট্র রাসেল মেনে নিতে পারত না।

এমন একটা চঞ্চল, বুদ্ধিপটু, নিস্পাপ শিশুকেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে ঘাতকের দল মরে ফেলল। শেখ রাসেল তার সোনালী শৈশব পেরুতে পারেনি আজও। তবে মরছে কি? না মরেনি, চলে যাওয়া মনে প্রস্হান নয়। সকলের মাঝেই শেখ রাসেল বেঁচে থাকবে চিরদিন, সেই ছোট্র রাসেল হয়ে, তোমাদের বন্ধু হয়ে। ছোট্র রাসেলের গল্পের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানণ্রী মানবতার মা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিকট আকুল প্রার্থনা দেশে কর্মরত নিজেদের অর্থে ক্রয়কৃত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়ে করোনা মহামারির শুরু থেকেই প্রায় লক্ষাধিকেরও বেশি প্যারামেডিকল ডাক্তাররা বড় বড় ডাক্তারদের পাশাপাশি সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন গ্রাম, গঞ্জ ও শহরের নিপীড়িত অসহায় জনগোষ্ঠীকে বিপিডিএ এর মহাসচিব ডাঃ রাকিবুল ইসলাম তুহিন স্যারের নির্দেশনায়। আপনি করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে বিশ্বের কাছে একজন করোনা সাহসী প্রধানমণ্রী হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছেন।

আপনি সত্যিই মহিয়ান। আপনি দেশের মানুষের সুস্হ্যতা ও কল্যানে ৭টি ধাপে ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু এ ভাবে দেশ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিক ঘাটতি পুষিয়ে উঠতে দেশকে চরম খেসারত দিতে হবে। তাই সেই চিন্তা করেই দেশের চলমান লকডাউনকে শীতিল করার জন্য ধন্যবাদ। এবং চলমান ছুটি ৩০ মে প্রর্যন্তই শেষ। এহেন অবস্হায় কর্মজীবি থেকে পেশাজীবি সবাইকেই করোনা ঝঁকি মাথায় নিয়েই যার যার কর্মস্হলে অবস্হান করতে হবে আগামী ৩১ মে হইতে। গর্ববতী মা ও বয়স্কদের জন্য অফিসে উপস্হিতি শীতিল করা হয়েছে,করোনাকে নিয়েই বাচতে হবে আমাদের যতদিন পর্যন্ত এর কার্যকরি কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিস্কার না হয়।

তার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্হা যাতে ভেঙ্গে না পড়ে এবং সকল মানুষ যেন স্বাস্হ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এমতাবস্হায় বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল ডাক্তার এসোসিয়েশন (বিপিডিএ) এর ডাক্তারগণকে চিকিৎসক স্বীকৃতি দিয়ে, সারা বাংলাদেশের সাধারন মানুষদের সেবা করার সুযোগ গ্রহণ করলে বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল ডাক্তার এসোসিয়েশন (বিপিডিএ) আপনার সরকারকে সহযোগীতায় বদ্ধপরিকর। আপনি যতবার প্রধানমণ্রী হয়েছেন আর আপনার নিকট জনগণ যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন। আর চিকিৎসার স্বার্থে করোনা যুদ্ধে ওতোপ্রত ভাবে সেবা প্রধান করতে বিপিডিএ চাচ্ছে আপনার কাছে শুধুমাএ স্বীকৃতি।আপনি একজন তুলনাহীন মমতাময়ী মা ও প্রধানমণ্রী। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবি করুক।

ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম বিপিডিএ, ঢাকা বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category