বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ সার্কেল শেখ মোঃ সেলিম’র আহ্বান।।

Coder Boss / ৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০

রিতেষ কুমার বৈষ্ণব (হবিগঞ্জ জেলা)

“পুলিশের ঈদ আনন্দ হত্যা মামলা ডিটেকশন ও আসামি গ্রেফতারে।।

একটি প্রতিবাদ,
নিবারণে হত্যা এবং মামলা ধ্বংসের জন্য স্বাক্ষী হত্যা।

এতিম হয়ে যায় ১৩ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে, ৭ বছরের অবুঝ বালক, ৫ বছরের ফুটফুটে কন্যা ও ২২ দিনের শিশু, অথৈ সাগরে প্রিয়তমা স্ত্রী।

আমাদের সামাজিক জীবন ধারণ অনেক সহজ সরল। এখানে পাশাপাশি যারা বসবাস করেন প্রায় প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে নিজেদের আত্মীয়।

জীবন চলার পথে সবার সাথে সবার কোন না কোন বিষয় নিয়ে মনমালিন্য থাকেই। আমরা সামাজিক ভাবে সেটা সবসময় মিটিয়ে নেই। নতুবা ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে মিশতে থাকি। এটাই স্বাভাবিক জীবনধারণ, এটাই সামাজিক বন্দন।

কিন্তু সবসময় এরকম হয় না, কিছু মানুষ রুপী অমানুষের জন্য, যাদের লক্ষ্যই সাধারণ কথা কাটাকাটির বিষয় কে বড় আকারে রূপ দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে সমাজে নৈরাজ্য স্থাপন করা।

ফলশ্রুতিতে অার্থিক সহ সকল বিষয়ে লাভবান হওয়া, সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে ফায়দা লুটা এই সব অমানুষেরা ও দেখতে ঠিক মানুষেরই মত।

ব্যাতিক্রম ঘটেনি বানিয়াচং এর ৭নং বড়ই উরি ইউনিয়নের হলদারপুর গ্রামেও।

২০১৭ সালের ছোট বিষয় নিয়ে বিবাদের সুত্রপাত,।
স্থানীয় মুরুব্বিদের মিটমাটের চেষ্টা বৃথা। শেষমেশ হত্যা।
পিছনের অনেক দুষ্ট লোকের কালো হাতের ব্যবসা চলতেই থাকে।
গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে দীর্ঘ বিরোধ চলমান থাকে, আগুনে ঘি ঢালতে থাকে অনেকেই।

পরিনামে পুনরায় একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আর হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ঈদের আনন্দ হয়তো এই নৃশংস হত্যাকান্ডের আসমীদের গ্রেফতার, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহনের মধ্যে দিয়েই।

ঘটনাটি গত ২২/০৭/২০২০ইং এর বিকাল ০৬ঃ২০ ঘটিকায় নবীগঞ্জের শিবগঞ্জ বাজারের উত্তরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে হলদারপুরের কামাল মিয়া কে কতিপয় সন্ত্রাসী কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এদিনই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কামাল মিয়া মৃত্যু বরণ করেন।

সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে পুলিশ সুপার স্যার সহ আমরা ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থল নবীগঞ্জের হওয়ায় ওসি নবীগঞ্জ, সার্কেল বাহুবল আমাদের সাথে ছিলেন।

এসপি স্যার ভিকটিমের বসত বাড়িতে পৌঁছে তার আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। সাথে সাথে আমাদের নির্দেশনা দেন যেভাবেই হোক আসামি গ্রেফতার করতে হবে এবং সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

আমি সহ, সিনিয়র এএসপি পারভেজ, ওসি নবীগঞ্জ, ওসি ডিবি, এসআই কালাম ও ডিবির এস আই আজাদ সহ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করতে থাকি।

নবীগঞ্জ থানার এসআই কামাল, তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে যথেষ্ট সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।

ঈদের ৩ দিন আগে একজন গ্রেফতার হয়েছে, এবং ঈদের দিনও একজন গ্রেফতার হয়েছে।

সিনিয়র এ.এস.পি পারভেজ আলম ও ওসি নবীগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ডিবির এস আই আজাদের টিম সহ আমরা ০৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে একসাথে ১৩ জন আসামি গ্রেফতার করেছি।
সর্বমোট ১৫ জন আসামি গ্রেফতার ও ৬ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

১৩ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে, ৭ বছরের অবুঝ বালক, ৫ বছরের ফুটফুটে কন্যা ও ২২ দিনের শিশু ও প্রিয়তমা স্ত্রীকে রেখে কামালের চলে যাওয়া তাদের জন্য যে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে সেটা পূরণ করতে পারবোনা।
কিন্তু আমাদের ঈদ বিসর্জন দিয়ে দিন রাত এক করে হত্যাকারীদের আদালতে প্রেরণ করতে পেরেছি সেটাই বড় প্রাপ্তি।

সকলের প্রতি আহবান জানাই….

সমাজের ছোট বড় সকল বিরোধ নিয়ে আপনারা বসেন, নিজেরা কিছু ছাড় দিয়ে হলেও বিরোধ নিষ্পত্তি করুন। আর নয় হত্যা যজ্ঞ, এই হত্যা যজ্ঞ কোন কিছুর সমাধান দিতে পারেনা বরং আরও অসংখ্য হত্যার জন্মই দিবে।
প্রয়োজনে আমাদের তথ্য দিন, আমরা আপনাদের সাথে থেকে নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
হাসি ফুটে উঠুক সমাজের প্রতিটি মানুষের মুখে ।

বিঃদ্রঃ নিহত কামালের ২য় ছেলে আমার অফিসে এসে বলেছিলো “আঙ্কেল আমার আব্বুর খুনিদের বিচার চাই”।

ধন্যবাদান্তে

শেখ মোঃ সেলিম
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
বানিয়াচং সার্কেল
হবিগঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন