আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৩:২৬

বার : বুধবার

ঋতু : শরৎকাল

কমলগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৭টি দোকান পুড়ে ছাই, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি।

মোঃইকবাল হোসেন মাহদী
স্টাফ রিপোর্টার কুলাউড়া।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউপির বাসুদেবপুর এলাকার ঠাকুর বাজারে আগুনে পুড়ে ১৭টি দোকানঘর ছাই হয়ে গেছে। আজ সোমবার(২৪ আগস্ট) ভোর ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারনে আগুনে পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৫টায় ঠাকুরবাজারে একটি মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখে বাজার প্রহরী বাসুদেবপুর মসজিদের মোয়াজ্জিন আরজু মিয়া মসজিদের মাইকে এলাউন্স করে বিষয়টি এলাকাবাসীকে অভিহিত করেন।

এলাকাবাসী এসে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে কয়েকদফা ফোন করলে কেউ ফোন রিসিভ করেনি। মঠোফোনে ফায়ার সার্ভিসের সাথে যোগযোগ করতে না পেরে স্থানীয় শুকুর মোল্লা নামে একব্যাক্তি প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ সাইকেলে অতিক্রম করে এসে অফিস থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিয়ে যান ঘটনাস্থলে। তবে ঘটনা স্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় আধাঘন্টা অতিবাহিত করেও পানির পাম্প চালু করতে না পারায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

অগ্নিকান্ডে নান্নু স্টোর, দেওয়ান চালের দোকান, সাহবাগ ধানের দোকান, মামনি কনফেকশনারি, শাহজালাল ভেরাটিজ স্টোর, কে এম মেডিকেল হল, জননী মেডিকেল সেন্টার, মহিউদ্দিন কম্পিউটার, হাসিম টি স্টল, নকুল সেলুন, মকসন স্টোর, বাছির ফার্নিচার,মহসিন ভেরাইটিজ স্টোর, জুয়েল মিয়া’র বসত বাড়ি, চন্দন সেলুন, হাফিজ ভেরাইটিজ স্টোর ও নজরুল মিয়ার গুদাম ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এমন গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে প্রায় ৩শতাধিক এলাকাবাসী।

আগুন নিয়ন্ত্রনের পর দীর্ঘসময় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে রাখে বিক্ষুদ্ধ জনতা। পরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক এর আশ্বাসে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগীতায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটিকে ছেড়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় পঞ্চাশ (৫০) লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদকমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার আব্দুল কাদির জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেআগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের পানি পাম্পটি নষ্ট হওয়ায় কাজ করতে পানি নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আশেকুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এই অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে এটি তদন্তক্রমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যতাযত বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মহোদয়ের সাথে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্থরা যাতে যতাযত ক্ষতিপূরন পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। আগুনের সূত্রপাত ও ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারন অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category