আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ১২:৪১

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : শরৎকাল

ওসমানীনগরের চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র বিরুদ্ধে এমপির অভিযোগ

রাজা মিয়া বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজে,লা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (সিলেট-২) মোকাব্বির খান। গত ১৯ আগস্ট সাংসদ মোকাব্বির খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের বরাবরে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিনিয়র সচিবকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরী নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান পদবী ব্যবহার করে সরকারি কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার অপব্যববহার করছেন। তিনি নিয়ম বহির্ভুতভাবে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ায় অত্র উপজেলার জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতার কারণে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের শূন্যপদে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ও তাজপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের শূন্যপদে ২০১৯ সালের ২ জুলাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রাপ্ত আবেদনগুলি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চলতি বছরের ৫ আগস্ট এ সংক্রান্ত সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে সভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের শূন্যপদ পূরণের আইনি বিধান থাকলেও গত ২২ মাসেও পদ দু’টির নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। নিয়োগ কমিটির সদস্য, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার। তিনি দায়িত্বপালনে স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদ্য বদলিকৃত সাব-রেজিস্ট্রার পারস্পরিক যোগসাজশে একাধিক আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সরকারি নথি থেকে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছে সরবরাহ করেছেন।

অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

অভিযোগকারী সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, ‘ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী মহোদয় ইতোমধ্যে সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতির সঞ্চার হবে। দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন স্থানীয় জনসাধারণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category