আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৮:০৩

বার : শনিবার

ঋতু : শরৎকাল

কেশবপুরের বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) কে ভুয়া ডাক্তার সংবাদ প্রকাশ করায় ডাক্তারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা

রাকিবুল হাসান সুমন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংলগ্ন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে গত বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করেন যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ শাহীন। এ সময় তিনি অতিরিক্ত ডিগ্রি ব্যবহারের জন্য দুইটি প্রাইভেট ক্লিনিকের দুইজন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পুড়িয়ে দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা । দুইজনই কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। যাদের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নং এ৬৭৯৬৪ ও এ৭২১০৮। কিন্তু কিছু নিউজ পোর্টালে শিরোনাম করা হয় কেশবপুরে রাইজিং প্যাথলজীর ভুয়া ডাক্তারদের প্যাড পুড়িয়ে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। যে সংবাদটি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারকে অসম্মান করা ও সমাজের কাছে ছোট করা হয়।শিরোনাম চকমপ্রদ করতে আমাদের সংবাদ কর্মীদের এমন লেখা কত টুকু দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে? একজন বিসিএস ডাক্তারকে আমরা ভুয়া ডাক্তার শিরোনাম করছি।

এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত কি না? একটি কুচক্রী মহল সরকারের স্বাস্থ্য সেবাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে এবং সমাজে বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) হেও প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা সংবাদ শিরোনাম উপস্থাপন করেছেন বলে মনে করেন অনেক ডাক্তাররা।

সিভিল সার্জন শেখ শহীন জানান, তিনি কোন ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র পোড়ান নি। আমি দেড়শত এর বেশি অভিযান পরিচালনা করেছি । কিন্তু আমার দ্বারা এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি।

আমার সাথে থাকা কোন লোক বা ক্লিনিক মালিক পোড়াতে পারেন। সংবাদ শিরোনামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান আমার সাথে কোন সাংবাদিকের কথা হয়নি। সংবাদ শিরোনামে ভুয়া ডাক্তার লেখা সঠিক হয়নি।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এর টিএসও আলমগীর হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা সংবাদ প্রতিবেদক জানান ব্যবস্থাপত্র পোড়ানোর কথা টিএসও স্যার জানান। শিরোনামে ভুয়া ডাক্তার লেখা এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানান সংবাদের ভেতরে ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছি।

রাইজিং প্যাথলজির মালিক জানান ব্যবস্থাপত্র পোড়ানের ঘটনা সত্য।

হিরা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে 01767861576 নং এ কথা বলে জানা যায়, সিভিল সার্জন স্যারের সাথে থাকা লোকটি ব্যবস্থাপত্র পোড়াতে বলেন।

ডাক্তার দুই জন জানান, তারা যে সব ডিগ্রি যে যে পার্ট পর্যন্ত শেষ করেছেন তারা সেই সব ডিগ্রির ঠিক সেই পার্ট পর্যন্ত ব্যবস্থাপত্রে ও ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখ করেছেন। তারা আরও জানান আমরা বিসিএস ক্যাডার কিন্তু আমাদের ব্যবস্থাপত্র পোড়ানোর মাধ্যমে ভুয়া ডাক্তার বানানো হল। এটা খুবই দুঃখজনক।

অপরদিকে শুক্রবারে ক্লিনিকে ঘুরে দেখা যায় এখন অতিরিক্ত ডিগ্রির ব্যবস্থাপত্র অনেকেই ব্যবহার করছেন। শুধুমাত্র কলমের কালি দিয়ে কেটে দিচ্ছেন।

যাদের ব্যবস্থাপত্র পোড়ানো হয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কেশবপুরে বেশ সুনামের সাথে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন । তাদের এমন বিষয় নিয়ে রোগীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।(রোগী ও দুই ডাঃ এর সম্পর্ক আগামি কাল সেটা প্রকাশ করা হবে) করোনাকালে একজন ডাঃ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন । সুস্থ্য হয়ে আবার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তাই সংবাদ সংগ্রহ করা, শিরোনাম তৈরী করা ও প্রকাশ করার সময় আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category