আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৪:৩৪

বার : রবিবার

ঋতু : হেমন্তকাল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক!  

মোঃ আলীনূর রহমান,  সিলেট জেলা বিশেষ প্রতিনিধি।      

বাংলাদেশ  অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবে আলম আর নেই (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।  

গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল জ্বর অনুভব করেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কোভিড১৯ পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। একইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন।

২০ সেপ্টেম্বর তার কোভিড১৯  নেগেটিভ হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ব্যক্তি জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

প্রধানমন্ত্রীর শোকঃ 

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন এবং সব সময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে,

মাহবুবে আলমের ন্যায়নিষ্ঠতাও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের শিক্ষা জীবন ও কর্মময় জীবনঃ

১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবে আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। 

তিনি ১৯৯৮ সালে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

মাহবুবে আলম ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪-২০০৭ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং সাথে সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category