আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ১১:৪৮

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

শ্রী শ্রী বাসু দেব মন্দিরের ভক্তবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব।

পলাশ পাল স্টাফ রিপোর্টারঃ

তারিখঃ ০৮ / ১১ / ২০২০ ইং , সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ , আমার আদব ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন । আমরা চুনারুঘাট শ্রী শ্রী বাসু দেব মন্দিরের ভক্তবৃন্দ এবং ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দের পক্ষ থেকে একটি অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও তহবিল তছরুপের বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি । মন্দিরের সেক্রেটারী প্রণয় কুমার পাল ও কোষাধক্ষ্য বিধান রঞ্জন পালের নানা অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে জেলা প্রশাসক , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একাধিকবার লিখিত অভিযােগ । দিয়েও কোনাে সুফল না পাওয়ায় অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযােগ দিয়েছি । দুর্নীতি ও আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে আমরা আপনাদের স্বরণাপন্ন হয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে চাই । প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ চুনারুঘাট উপজেলাধীন হাতুঙা গ্রামের বাসুদেব বাড়ির শ্রী শ্রী বাসুদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী প্রণয় কুমার পাল এবং একই পরিবারের কোষাধক্ষ্য বিধান রঞ্জন পাল দীর্ঘ ২২ বছর যাবত । অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ও কৌশলে অনিয়ম ও আত্মসাতের মহােৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন । বিগত ১৪০৬ বাংলা সন হতে ১৪২১ বাংলা সন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় সরকারি অনুদানের টাকা যথাযথভাবে মন্দির উন্নয়নের কাজে ব্যবহার না করে ২৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৬২১ টাকা ভূয়া মাষ্টার রােল দাখিলের মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন । এ ছাড়া মন্দিরের প্রণামির বাক্সের টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন দাতা ও ভক্তবৃন্দের পাঠানাে টাকা আত্মসাত করেন । এমনকি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কমিটি পুণর্গঠন ও অডিট না হওয়ায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিলে পরপর কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । প্রিয় কলম সৈনিক ভাইয়েরী এক পর্যায়ে বিষয়টি হবিগঞ্জে আমাদের নেতৃবৃন্দের মাঝে জানাজানি হলে তাদের হস্তক্ষেপে বিগত ০৫ / ১২ / ২০১৬ ইং তারিখে চুনারুঘাট থানায় বসে উভয় পক্ষ এবং নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে পূর্ব কমিটি বাতিল করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় । উক্ত আহ্বায়ক কমিটি থেকে প্রণয় পালকে অব্যাহতি দেয়া হয় । পরবর্তীতে আহ্বায়কের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের অডিট কমিটি অডিট ছাড়াও একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের অডিট করেন ২৮ / ১০ / ২০১৭ ইং তারিখে । কমিটি অডিটকালে বিধিবহিভূতভাবে খরচসহ অস্বচ্ছতা ও তহবিল তছরুপের সত্যতা পান । এমতাবস্থায় অডিট কমিটি ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায়ের স্বার্থে কমিটির সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে নগদায়নের পরামর্শ দেন এবং ক্রটি বিচ্যুতিগুলাে অনতিবিলম্বে সংশােধনের দিকনির্দেশনা দেন । প্রিয় জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ । প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হবিগঞ্জের নেতৃবৃন্দসহ সকলের উপস্থিতিতে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মােতাবেক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও অডিট সম্পন্ন হলেও সেক্রেটারী প্রণয় কুমার পাল ও কোষাধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র পালের গােয়ার্তুমির কারণে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যতয় ঘটে এবং উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়ের মন্দিরের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে আবারও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় । এক পর্যায়ে ভক্তবৃন্দের পক্ষে শ্রী গৌতম গােপ ২৬ / ১১ / ২০১৭ ইং তারিখে হবিগন্দ্র জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযােগ দায়ের করেন । এর প্রেক্ষিতে । জেলী প্রশাসকের কার্যালয় হতে অভিযােগটি তদন্তের জন্য চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয় । ( পাতা -১ )পাতা -২ ) । প্রিয় প্রিন্ট , ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এমতাবস্থায় বাসুদেব মন্দিরের প্রায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতকারী প্রণয় পাল ও বিধান রঞ্জন পাল আরও বেপরােয়া হয়ে উঠেন এবং অভিযােগকারীসহ নিরীহ ভক্তবৃন্দের প্রতি প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিতে থাকেন । এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানায় গৌতম চন্দ্র পাল বাদি হয়ে বিগত ৪ / ০১ / ২০২০ ইং তারিখে একটি জিডি এন্টি করেন । অপরদিকে আমরা ভক্তবৃন্দ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট সুবিচার না । গেয়ে উপ – পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন হবিগ বরাবরে গত ০৩ / ১১ / ২০১০ ইং তারিখে অপর একটি অভিযােগ প্রেরণ করেছি । আমাদের বাহ্যিক হিসাব মতে দীর্ঘ ১২ বছরে প্রণয় পাল ও বিধান পাল একে অপরের যােগসাজশে উন্নয়ন কর্মকান্ডের নামে মনগড়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অন্তত ৮১ লাখ ১৯ হাজার ৯৪১ টাকা আত্মসাত করেছেন । চুনারুঘাট পূবালী ব্যাংকে মন্দিরের হিসাৰ ( ১০২৪১০১০৬৯৭৩১ ) নী থেকে রেজুলেশন ছাড়াই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে । এ ছাড়া মন্দিরের বিভিন্ন ফান্ডে থাকা টাকা দিয়ে সেক্রেটারী প্রণয় পাল ও কোষাধ্যক্ষ বিধান রঞ্জন পাল পূবালী ব্যাংক রাজারবাজার শাখায় ০৩ / ০৩ / ২০১৫ ইং তারিখে ৫ লক্ষ টাকা , একই শাখায় ০৬ / ০৪ / ২০১৫ ইং তারিখে ০৩ লক্ষ টাকা এবং ০২ ০৭ / ২০১৫ ইং তারিখে চুনারুঘাট শাখায় ০৪ লক্ষ টাকা প্রণয় পালের নামে এফডিআর করা হয় । এ ছাড়া জনসম্মুখে প্রণয় পাল কর্তৃক মৌখিকভাবে প্রকাশিত ১৪০৯ বাংলা সনের বিদেশী দাতাগণ হতে প্রাপ্ত ০১ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৮৮ টাকা ১৪১১ বাংলা সনে ০১ লক্ষ ১৬ হাজার ৯০৯ টাকা , ১৪১২ বাংলা সনে ০৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৬৫ টাকা , ১৪১৩ বাংলা সনে ০৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৪১০ টাকা , ১৪১৪ বাংলা সনে ০৩ লক্ষ ১৪ হাজার ১৫৬ টাকাসহ মােট ১৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৭৮ টাকার হিসাব দিলেও উক্ত টাকা কোন মা বা হিসাব উল্লেখ না করে আত্মসাত করেন । পূবালী ব্যাংক চুনারুঘাট বাজার শাখায় বাসুদেব মন্দিরের হিসাব বিবরণী উত্তোলন করে দেখা যায় যে , বিগত ০১ / ০১ / ২০১৩ ইং তারিখ হতে ২৪ / ০১ / ২০১৬ ইং তারিখ পর্যন্ত অনুমােদন ছাড়াই ব্যক্তিগত প্রয়ােজনে প্রণয় পলি মন্দিরের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন । সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ পরিশেষে আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে উপস্থিত হওয়ার জন্য সালের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category