আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১:২১

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

সামাজিক আন্দোলনে কাউন্সিলার পদপ্রার্থী ফজল খানের বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সামাজিক আন্দোলন জোরদার,বাসতবায়ন ও যোগ্য নেতৃত্বে আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পদপ্রার্থী ফজল খানের বিকল্প নেই।সুপরিচিত নাট্যকার,পরিবেশ কর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একজন সুপরিচিত মুখ। যিনি দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করতে যাচ্ছেন মানুষের ভালোবাসা।
দৈনিক সিলেট নিউজকে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান- আমি ছাত্র জীবন থেকে
তিল তিল করে জীবন গড়ে তুলেছি। পারিবনা শব্দ বলতে আমার জীবনে নেই। কী ছিলাম, কী হয়েছি, কি হবো? সেটা আপনারা ভালো জানেন।
১৯৮১ সালে ২০ নভেম্বর আমার জন্ম। সিলেট জেলা, বিশ্বনাথ উপজেলা ৭ নং দেওকলস ইউপি আলাপুর গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারের মরহুম জবেদ আলী খানের ৮ম সন্তান। আমার ভাই ৬ জন, বোন ২ জন জন। আমি সবার ছোট। ১৯৯৯ সালে SSC পরীক্ষাতে ইংরেজীতে মাত্র “১” এর জন্য পেল করে কর্ম জীবন বেচে নেই। হলাম ড্রাইভার! ২০০৪ সাল পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে জীবিকা রক্ষা করি। মনের মধ্যে জিদ আসলো, এজীবন জীবন না, আসল জীবন খোঁজতে হবে।
২০০৪ সালের শেষের দিকে জীবনে রং বদলে দিলাম——
২০০৫ সাল থেকে গাড়ি ড্রাইভিং করি ও নাট্য সংগঠন পল্লী বাংলা মিডিয়া প্রোডাকশনের সহ- সভাপতি/ সম্পাদক হই। এখানে নাটক রচনা করি, পরিচালনা করি, অভিনয় করা সহ সব ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করি। ২০০৭ সাল থেকে শুধু সংগঠন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পেশায় নিয়োজিত থাকি। ২০০৯ সালে ১ নভেম্বর বিবাহ করি। ২০১০ সালে পল্লী বাংলা সংগঠন ভেঙ্গে দিয়ে ২০১১ সালে বাসিয়া নাট্য কল্যাণ সংস্থা গঠন করি। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে এখনো আসছি। ২০১২ সালে- কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করি। ২০১৩ সালে আরেকটি সংগঠন গঠন করি ” জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জুট” এই সংগঠনের সভাপতি চলমান আছি। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করি। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল জনস্বার্থে কাজ করবো। বিজয়ী হলেও জনগণের হয়ে উন্নয়ন মূলক কাজ করবো, পেল করলেও করবো। এর জন্য জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৫ সালে আমার স্থায়ী এলাকাতে রেনেসাঁ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাংস্কৃতিক সম্পাদক আছি। এবং আমি যে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি- “জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়”, সেই বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছত্রী দের নিয়ে মঞ্চ নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিচালনা করে আসছি। ২০১৬ সালে আলোচিত সংগঠন গঠন করি- “বাচাঁও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ”। এই সংগঠন ইতিহাস রচনা করে পেলবে, কখনো ভাবতে পারিনি। এর মধ্যে আরো অনেক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি।

পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও বই আমার সম্পাদনায় প্রকাশনা করি, যেমন- ভোট যুদ্ধ, স্মৃতির ডাইরি, ঈদ উৎসব ও বাচাঁও বাসিয়া ইত্যাদি।

আমার রচনা ও পরিচালনায় ভিডিও সিডি নাটক ও মঞ্চ নাটকও কম ছিলনা, যেমন- বিরাট সমস্যা, ভেঙ্গে দিলে মন, নিশা লাগিলো রে, রাতের পিচাশ, মানুষ না ভূত, মায়ের বুক রক্তে লাল, রক্তাক্ত বাংলাদেশ, কর্মের ফল, চেয়ারম্যান, শ্রীহট্রের হাছন রাজা। চ্যানেল “S” uk তে অনেক নাটক করেছি, যেমন- সরস্বতীর প্রদীপ নিবে গেল, গরু মেরে জুতা দান, রক্তাক্ত জমিন, শামিম খুন, জুয়েল খুন ইত্যাদি। এবং বিভিন্ন সিডি নাটক ও মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছি নো- টেনশন, সর্বনাশ, একাত্তরের হেকমত আলী, বউ চোর, হুক্কা মিয়ার সিস্টেম লস, বিয়ের শারি, কেনে পিরীতি বারাইলা, বদলে যাওয়া মানুষ, গল্লা পীর, বঞ্চিত, এইডস, স্বপ্নের শহীদ মিনার, ভাটির রাজা আব্দুল করিম। অনেক নাটকের নাম মনে পরছেনা।

২০০৭ সাল থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় দিবসের প্রতিটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। একুশে বইমেলা, বৈশাখী উৎসব, গুণীজন সম্বর্ধনা, উপজেলা পর্যায়ে বৎসর সেরা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসাবে রয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করে থাকি।
এ পর্যন্ত আসতে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অনেক লাঞ্ছিত অপমানিত হয়েছি। হাসি- কান্নাও কম করিনি। তবে সম্পূর্ণ আমার পরিশ্রমের টাকা ছিল। আমার পরিবারের কারোর পকেটের টাকা নষ্ট করিনি। সম্পদও বিক্রি করতে হয়নি।
২০১৭ সালে ছোট- বড় সবার কাছে প্রিয় “ফজল খান” যা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি নি।
আমার কোন শত্রু নেই, মামলা নেই। তাই হামলারও ভয় নেই—- শুধু দূর্নীতি, দালালী, ঘুষ, অবৈধ দখলবাজ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। ভবিষ্যতে এভাবে যেন থাকতে পারি। সবার ভালবাসায় আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমি সবার কাজে কৃতজ্ঞ ও অনুপ্রাণিত। আগামীতেও সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই—– ফজল খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category