আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ১০:৫২

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

মানবতার কিংবদন্তি বিশ্বনাথের ফজল খান

রাজা মিয়া বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বিশ্বনাথের ব্রান্ড ফজল খান—– গল্প নয়, সত্যি! তিনি এখন “জিরো থেকে হিরো”

“ফজল খান” তিনি তিল তিল করে জীবন গড়ে তুলেছেন। পারিবনা শব্দ বলতে তাঁর জীবনে কোন শব্দ নেই। কী ছিলেন, কী হয়েছেন, কি হবেন? সেটা আমরা দেখেছি ও ভালো করে জেনেছি। বিশ্বনাথ উপজেলায় আন্দোলন মানে ফজল খানের। যেখানে অন্যায় অনিয়ম, ঘুষ দূর্নীতি, অবৈধ দখল, সরাসরি গাছ কর্তন হচ্ছে, সেখানে ফজল খানের প্রতিবাদ দেখেছি।
১৯৮১ সালে ২০ নভেম্বর তাঁর জন্ম। সিলেট জেলা, বিশ্বনাথ উপজেলা ৭ নং দেওকলস ইউপি আলাপুর গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারের মরহুম জবেদ আলী খানের ৮ম সন্তান তিনি। তাঁর ৬ ভাই, ২ বোন। তিনি সবার ছোট। ১৯৯৩ সালে ৫ম শ্রেণী থেকে পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষাতে ইংরেজীতে মাত্র “১” এর জন্য পেল করে কর্ম জীবন বেচে নেই। হলেন হেল্পপার থেকে ড্রাইভার! তিনি ২০০৪ সাল পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে জীবিকা রক্ষা করেন। তিনির মনের মধ্যে জিদ আসলো, এজীবন জীবন না, আসল জীবন খোঁজতে হবে উনাকে।
২০০৪ সালের শেষের দিকে জীবনে রং বদলে দিলেন——
২০০৫ সাল থেকে গাড়ি ড্রাইভিং করেন ও নাট্য সংগঠন পল্লী বাংলা মিডিয়া প্রোডাকশনের সহ- সভাপতি হন, পরে সম্পাদক হই। এই সংগঠনের মধ্যে তিনি নাটক রচনা, পরিচালনা ও অভিনয় করা সহ সব ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ফজল খানের এখান থেকেই পরিচিতি প্রকাশ হতে থাকে। গাড়ি ড্রাইভিং ছেড়ে দিয়ে ২০০৭ সাল থেকে শুধু সংগঠন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পেশায় নিয়োজিত থাকেন। ২০০৯ সালে ১ নভেম্বর বিবাহ করেন। ২০১০ সালে পল্লী বাংলা সংগঠন ভেঙ্গে দিয়ে ২০১১ সালে বাসিয়া নাট্য কল্যাণ সংস্থা গঠন করেন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এখনও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১২ সালে সাংবাদিকতার পাশাপাশি কাঠ ব্যবসা ও ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৩ সালে আরেকটি সংগঠন গঠন করেন বিশ্বনাথ উপজেলা ” জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জুট”। এই সংগঠনের সভাপতি চলমান আছেন। ২০১৪ সালে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। তেমন ভোট পাননি। মাত্র ৭শ ৬৭টি ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল জনস্বার্থে কাজ করবো। বিজয়ী হলেও জনগণের হয়ে উন্নয়ন মূলক কাজ করবেন, পেল করলেও করবেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রেখে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে তিনির এলাকাতে রেনেসাঁ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে সহ- সাধারণ সম্পাদক হন। এবং তিনি যে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে- “জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়”, সেই বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছত্রী দের নিয়ে মঞ্চ নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিচালনা করে আসছেন।

২০১৫ সালে আলোচিত একটি সংগঠন গঠন করেন- “বাচাঁও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ”। এই সংগঠন ইতিহাস রচনা করে পেলবে, কখনো তিনি ভাবতে পারেননি। আন্দোলনের ফলে বাসিয়া নদী ২৪ কিলোবাইট খনন করা হয়েছে। এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য ১৮৬ জনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা হয়েছে। মাকুন্দা নদী ও খাজাঞ্চী নদী ২৮ কিলোবাইট খনন কাজ চলমান আছে। এসব হচ্ছে ফজল খানের আন্দোলনের ফসল। বাসিয়া নদী রক্ষার আন্দোলনের পাশাপাশি আরো অনেক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। যেমন, বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আন্দোলনের সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিদ্যুত বিলের প্রতিবাদে আন্দোলনের সভাপতিত্ব করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার সকল সড়ক সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনের সভাপতিত্ব করেন, অনিয়ম দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সভাপতিত্ব করে আসছেন। মুফতির বাজার অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। কালিগঞ্জ বাজারের অবৈধ দখল উচ্ছেদের অভিযোগ করেন। উপজেলার মধ্যে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। চরচন্ডি নদী উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করে আসছেন।

পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও স্বারক সম্পাদনায় প্রকাশনা করে আসছেন, যেমন- ভোট যুদ্ধ, স্মৃতির ডাইরি, ঈদ উৎসব ও বাচাঁও বাসিয়া ইত্যাদি।

ফজল খানের রচনা ও পরিচালনায় ভিডিও সিডি নাটক ও মঞ্চ নাটকও কম ছিলনা, যেমন- বিরাট সমস্যা, ভেঙ্গে দিলে মন, নিশা লাগিলো রে, রাতের পিচাশ, মানুষ না ভূত, মায়ের বুক রক্তে লাল, রক্তাক্ত বাংলাদেশ, কর্মের ফল, চেয়ারম্যান, শ্রীহট্রের হাছন রাজা। চ্যানেল “S” uk তে অনেক নাটক করেছেন, যেমন- সরস্বতীর প্রদীপ নিবে গেল, গরু মেরে জুতা দান, রক্তাক্ত জমিন, শামিম খুন, জুয়েল খুন ইত্যাদি। এবং বিভিন্ন সিডি নাটক ও মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন নো- টেনশন, সর্বনাশ, একাত্তরের হেকমত আলী, বউ চোর, হুক্কা মিয়ার সিস্টেম লস, বিয়ের শারি, কেনে পিরীতি বারাইলা, বদলে যাওয়া মানুষ, গল্লা পীর, বঞ্চিত, এইডস, স্বপ্নের শহীদ মিনার, ভাটির রাজা আব্দুল করিম। তিনি বলেন, আরো অনেক নাটকের নাম মনে পরছেনা।
২০০৭ সাল থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় দিবসের প্রতিটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একুশে বইমেলা, বৈশাখী উৎসব, গুণীজন সম্বর্ধনা, উপজেলা পর্যায়ে বৎসর সেরা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসাবে ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করে আসছেন।
ফজল খান বলেন, এ পর্যন্ত আসতে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অনেক লাঞ্ছিত অপমানিত হয়েছি। হাসি- কান্নাও কম করিনি। তবে সম্পূর্ণ আমার পরিশ্রমের টাকা ছিল। আমার পরিবারের কারোর পকেটের টাকা নষ্ট করিনি। সম্পদও বিক্রি করতে হয়নি। আমার ইচ্ছে শক্তি ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক ছিল বলে হয়তো সফল হতে পেরেছি। আমার এ কাজে সম্পূর্ণ উৎসাহ ও পাশে থেকেছেন এই উপজেলার যুবসমাজ ও প্রবাসী ভাই। তাঁদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।

২০১৭ সালে ছোট- বড় সবার কাছে প্রিয় “ফজল খান” যা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন নি।
তিনির কোন শত্রু নেই, মামলা নেই। তবে তিনি মামলা হামলারও ভয় করেন না বলেই দূর্নীতি, দালালী, ঘুষ, অবৈধ দখলবাজ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। ভবিষ্যতে এভাবে যেন থাকতে পারেন। এর জন্য সবার কাছে দোয়া ও ভালবাসা চেয়েছেন। তিনি সবার কাজে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category