আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ২:৪৬

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

মাধবপুরে শিকলে বাধা আলালের জীবন

নাহিদ,মাধবপুর হবিগঞ্জঃ

আলালের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। পেশায় ছিল দিনমজুর। যা আয় রোজগার করতেন তা দিয়েই ৫ জনের জীবন চলত আলালের। কিন্তু গত ২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বাধা পড়েছে তার জীবন। স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাধ্য হয়েই প্রিয়তমা স্বামীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

আলালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছরের ছেলে আকাশ, ৯ বছরের ছেলে জীবন, ৩ বছরের কন্যা মিমকে নিয়ে তাদের ৫ জনের সংসার ভালই চলছিল। তার স্বামী পেশায় ছিল একজন দিনমজুর। কিন্তু গত ২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। চিকিৎসা করাতে দারস্ত হন বিভিন্ন কবিরাজের কাছে। করোনা শুরুর আগে ডাক্তার দেখানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু করোনার কারণে তাকে আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সে দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানুষকে দেখলেই সে হিংস্র হয়ে উঠে এবং মারধর করতে উদ্যত হয় এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। ৩টি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার চালানো এবং অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৩ শতক ভিটে বাড়ি একমাত্র সম্ভল পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে এখন কোনও রকমে টিকে আছি।

কিন্তু অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই টাকার অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। বড় ছেলে আকাশ ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেকের কাছেই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। এখন ৫ জনের সংসার এবং স্বামীর চিকিৎসা করা মনোয়ারার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ সুরমা গ্রামের প্রতিবেশী কলেজ ছাত্র ফুয়াদ আলম চৌধুরী জানান, আলাল মিয়া একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম লোক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। এ কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে করে দিন দিন সে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান জানান, আলালের বিষয়টি খুবই মানবিক। সরকারের কাছে দাবি করছি তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে আসবে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইশতিয়াক আল মামুন জানান, সে একজন মানসিক রোগী। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দিলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। শিকলে বেঁধে রাখায় তিনি আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category