আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৬:৫৭

বার : মঙ্গলবার

ঋতু : বসন্তকাল

বিশ্বনাথে হাওর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ; সপ্ন কেড়ে নিল ভূমি খেকো সাইফুল

রাজা মিয়া :

বিশ্বনাথ উপজেলার চাউলধনী হাওরে পানির অভাবে ইরি-বুরো ফসল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চাউলধনী হাওরের চার পারের ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার কৃষকের এখন মাথায় হাত। তাদের কান্না কেউ শোনছে না। একটি দশঘর মৎসজীবি সমবায় সমিতির নামে অমৎসজীবি লন্ডন প্রবাসী সাইফুল আলম, শাহিন মিয়া গং ইজারাদারের অতি লোভের কারনে প্রায় শত কোটি টাকার ধান উৎপাদন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। পানি শুকিয়ে দেয়ার কারনে কৃষকরা দলবদ্ধভাবে লীজ বাতিল ও লীজ গৃহীতার শাস্তির দাবিতে হাওরে প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন। কথিত আছে যে, চৈত্র-বৈশাখ মাসে উৎপাদিত চাউলধনী হাওরের ধানে সমগ্র বাংলাদেশের আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদন হয়। সেই চাউলধনী হাওরে এখন পানি নেই।

স্থানীয় জন সাধারণের অভিযোগ, দশ ঘর গ্রামের একটি মৎসজীবি সমবায় সমিতির নামে চাউলধনী হাওরের সরকারি জলাভুমি থেকে মাছ আহরণের জন্য ইজারা দেয়া হয়। ইজারাকালীণ সময়ে কৃষকের ফসল উৎপাদনে কোন ক্ষতি না করার বিভিন্ন শর্তারোপ করা হয়। কিন্তু ইজারাদার সকল শর্ত ভঙ্গ করে মাছ ধরার লোভে হাওরের বাঁধ কেটে পানি ছেড়ে দেয়। এতে শতাধিক একর চারা জমি ও ছয় হাজার একরের মত বোরো জমির পানি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যায়। হাওরে ১৬ টি বিল ও ৩০টি খালসহ দের শতাধিক পুকুর ব্যক্তি মালিকানাধিন রয়েছে। সরকারি জলাশয়ে সীমানা নির্ধারণ না থাকায় ইজারাদার ও সাবলীজ গ্রহীতা গরিব কৃষকের জমি, পুকুর দখল করে সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরে নিচ্ছে। ইজারাদারদের সাথে প্রভাবশালি মহল ও প্রশাসনের ক্ষতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নেপথ্যে থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৭ সালে ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫ বছরের জন্য চাউলধনি হাওরের ১৭৮ একর জলমহাল জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু এ হাওরে প্রায় ৬ হাজার একর জমি রয়েছে। এভাবে লীজের নামে ক্ষতিপয় প্রভাবশালী অমৎজীবিরা ভুয়া সমিতি গঠন করে হাওরের ফসল উৎপাদনে বাঁধার সৃষ্টি করে নিজে কোটি টাকার মাছ বিক্রি করছে। এই অঞ্চলের কৃষক একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। চলতি বছর অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারনে অগ্রাহায়ন মাসের ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কৃষকরা বিভিন্নভাবে অগ্রিম ঋণ নিয়ে ফসল উৎপাদনের জন্য বীজ তলায় বীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু ইজারাদার রাতের আধরে বাঁধ কেটে দিয়ে হাওরের পানি শুকিয়ে দেয়ায় বীজ তলা ও ফসলের ভুমি রুদ্রে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। যেকারনে অঞ্চলে চৈত্র ও বৈশাখ মাসে খাদ্য সংকট চরমভাবে দেখা দিবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বনাথ উপজেলার চাউলধনী হাওড় আর দুবাগ বিল দুটি জলমহাল উপজেলার মধ্যে একটির আয়তন বড় আরেকটি ছোট। দুবাগ বিল টা ছোট আর চাউলধনীটা বড়। সেই দুটো জলমহাল দখলে সাইফুর গংদের। এই দুটো জলমহাল ইজারা নেয় দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ। এই সমিতিটি ১৯৭২ সালে প্রথমে নিবন্ধিত হয়। নিবন্ধিত হওয়ার পর তার কর্মএলাকা ছিল দশঘর আর নোয়াগাও গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু যখন সাইফুল এই সমিতিটা দায়িত্ব নেয় তখন সে কর্মএলাকার পরিথি সমগ্র বিশ্বনাথ উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। রেখে অনেকটা কৌশল করে সমিতির প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল জলিলকে সভাপতি করে উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় আবেদন করে জলমহালের। কিন্তু বিশ্বনাথ উপজেলা জলমহাল কমিটি তার দশঘর মৎস্যজীবির আবেদনটি প্রস্তাব নাকোচ করেন প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জনাব অমিতাভ পরাগ তালুকদার। কিন্তু উপজেলা সমবায় অফিসার জনাব কৃষ্ণা রানী তালুকদার উৎকোচের বিনিময়ে দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ কে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন, যা ছিল সমবায় আইন ও বিধির পরীপন্থী। কারন দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি ০৩ মেয়াদের বেশী ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ছিলেন। সে ক্ষেত্রে আরেক নাটক সৃষ্টি করেছিলেন বর্তমান মৎস্য অফিসার শফিকুল ইসলাম ভুইয়া। মৎস্য অফিসার যে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছিলেন তা ছিল নারীকে মৎস্যজীবিকে বানিয়ে সমিতিতে অন্তভূক্ত করা। আরোকটা কাজ করেছিলেন উৎকোচের বিনিময়ে কর্মএলাকার বাইরের মৎস্যজীবিকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন। উপজেলা থেকে প্রত্যাঘাত হওয়ার পর তার আবেদনটি সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এডিসি শাখা থেকে তদন্তের নির্দেশ দেন, কিন্তু তদন্তে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সমবায় অফিসার ১/১১ আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ সজল চক্রবত্তী ও জেলা মৎস্য অফিসার এর কাছ থেকে বিরাট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তদন্ত রিপোটটি তার পক্ষ নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠায়। পরবর্তীতে দশঘর মৎস্যজীবি অপরপক্ষ সোনালী মৎস্যজীবি হাইকোট বিভাগে মামলা করলে তার অনিয়ম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রায় তার বিপক্ষে গেলে আমলরা তাকে বিভিন্ন কুটকৌশলে বিলটি পাই দেন, এতে সহযোগিতা করেন ভূমি মন্ত্রণালয় উপসচিব নামক এক আমলা। যার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জে।

সাইফুল বিশ্বনাথ উপজেলায় যুবলীগের তিনজন ব্যক্তি তার পক্ষে সর্বদা অবস্থান রেখে কাজ করতেন। সে অনেকটা নাটক সৃষ্টি করে কাজ হাসিল করতো বিভিন্ন দপ্তরে। তার পক্ষে কাজ না করলে অপদস্থ আর অপমানের শিকার হতেন অফিসার গন।বিভিন্ন জায়াগায় বদলী করাতো টাকার বিনিময়ে। আর অনুসন্ধানে জানা যায় যে দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিটা ডিসির ইজারা পাওনার আসামী ছিল সমবায় সমিতিটি পূর্বে।সাইফুল তার প্রতিপক্ষকে ফাসাতে মাননীয় পরিকল্পনার মন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর এর মামলাটি উপজেলা সমবায় অফিসার কৃষ্ণা রানীকে দিয়ে করিয়ে বিভিন্ন সময় জেল কাটিয়ে নিরীহ মৎস্যজীবিদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে এবং বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদেরও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে হয়রানি করাচ্ছে দিনের পর দিন।এছাড়া বিশ্বনাথের লন্ডন প্রবাসীর বাড়ী ভাংচুর ও ওয়াজ মাহফিলে বাধা এবং বিশ্বনাথের প্রকৃত মৎস্যজীবি সম্প্রদায়কে উৎকাত করার গভীর পায়তাড়ায় লিপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category