আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৯:১৬

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : হেমন্তকাল

ভূয়া শাসনব্যবস্থা,ভূয়া আদর্শবাদ দাসত্বের শৃংখলে বন্দী আজ মানুষ

সত্যজিৎ দাস,বাহুবল,প্রতিনিধিঃ

✍️ এ্যাডভোকেট উমায়রা ইসলাম ✍️

সত্যজিৎ দাস,বাহুবল(সংবাদ প্রতিনিধি)

রাজনীতি কখনোই সমাজনীতির বাইরে বাস করে না, মানবিক অনুভূতি কিংবা মানবিক আবেগের বাইরে তো নয়ই। তবে আইনের কঠোরতা কূটনীতির মারপ্যাঁচ অবশ্যই এতে থাকবে। তবে অবশ্যই রাজনীতি ব্যবসা নয়, এটি দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

একসময়কার রাজতন্ত্রের মধ্যেও শাসন ও দুঃশাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল। প্রজা বিরোধী রাজা বেশীদিন রাজত্ব ধরে রাখতে পারেন নাই। অভিজাত মহলের চাপ ও প্রজার চাপে পৃষ্ঠ হয়ে রাজাকে রাজদায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
গনতন্ত্র রাজতন্ত্র কে ধ্বংস করে কতটা লাভজনক হয়েছে বুঝিনা। আগে যা ছিল সদর এখন তা হয়েছে অন্দর। কিন্তু দুঃশাসনকে গনতন্ত্র মুছে ফেলতে পারে নাই। গনতন্ত্র কি? আব্রাহাম লিংকনের সংগাকে আমার উপলব্ধি এক ধোঁকা বলে মনে করে। জনগণ একসাথে রাজক্ষমতা চালানো একটি পাগলামি থিওরি ব্যতীত কিচ্ছু নয়।

গনতন্ত্রের চর্চা মানে সংকীর্ণ অর্থে ভোটাধিকার ব্যাপক অর্থে মানবাধিকারের নিশ্চয়তা। এখন কি হবে মানবাধিকার, তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। Universal Declaration of Human Rights নামক দলীল সেক্যুলারিজমের আদলে যে মানবাধিকারের বানী প্রতিষ্ঠা করেছিল, পৃথিবীর প্রত্যেকটা রাস্ট্র আজ কেউ সদরে আর কেউ অন্দরে, কেউ দেখিয়ে আর কেউ লুকিয়ে সেটি প্রত্যাখান করেছে। আজ World Bank এর নিকট জিম্মি জগতের সকল গনতন্ত্র। জিম্মি কর্পোরেট ওয়াল্ডের নিকট। জাতিসংঘ আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়। ছোট্ট উদাহরণ : মিয়ানমার ট্রাজেডি।
আজ বিশ্বময় সেকুলারিজম এর পেছনে চলছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তথা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কখন পারমানবিক বোমা হামলা চালানো হবে,সেটার দরকষাকষি চলছে শুধু। এ জগৎ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যুক্ত হয়েছে সেইসাথে জেনেটিক আক্রমণ। ছলাকলা করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত করার নামে চলছে ভ্রুন হত্যা, চলছে বন্ধ্যাকরণ, চলছে নারীত্বকে ধ্বংস করার বিভিন্ন পায়তারা।
হে সমাজ, তোমার নারী ধ্বংস হয়ে গেলে তোমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে, সেটা কবে বুঝবে? কবে বুঝবে সন্তানের মর্যাদা? হটকারি বিলাসিতার জালে আটকে পড়েছে মানবসমাজ, গ্রহন করেছে দাসত্ব, কিন্তু চিন্তা করে না। আটকে পড়েছে সুদের জালে, আটকে পড়েছে কর্পোরেট জগতের নিষ্ঠুরতায়। যখন রাজনীতি হবে কল্যাণমূখী, সমাজনীতি হবে কল্যাণমূখী, মানুষকে সত্যি মানবিক মর্যাদা দেয়া সম্ভব হবে, সেটা রাজতন্ত্র, খেলাফততন্ত্র কিংবা গনতন্ত্র হলেও ক্ষতি নাই। তবে প্রচলিত গনতন্ত্রের গঠনগত সংশোধন অতি জরুরী। সে গ্রামে চোর বেশী, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হবে মস্ত চোর। গনতন্ত্রের কল্যাণ টা কোথায়? চোরের গ্রামের ভদ্রলোকদের বিতারিত করার নাম গনতন্ত্র।
তাই অধিকার অধিকার বলে কর্তব্য কে পাশ কাটানোর প্রথাকে মানবাধিকার বলতে পারি না। এ সমাজের মৌলিক পরিবর্তন অতি জরুরী। অতি জরুরী আদর্শের মানদন্ড নির্ণয় করা। ভূয়া আদর্শধারীরা,আপনাদের বলি আর হবে না আমাদের নবীন ভাইয়েরা। কাকে আদর্শ বলে,সে সংগা আগে সৃষ্টি করেন। এরপর আপনাদের ফাঁকা বুলি কে বোধগম্য করার চেষ্টা করে দেখা যাবে,তার আগে নয়। আমরা অসভ্য অভদ্র যুবসমাজকে আর ব্যবহার করতে দিবোনা। দিবোনা আমাদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে। শিক্ষা ব্যবস্থা হয়তো ধ্বংস করে দিয়েছেন। এত নষ্টামির মধ্যেও সৃষ্টিকর্তা আমাদের অন্তরকে এখনো জীবিত রেখেছেন। আপনাদের বানোয়াট তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে, আপনাদের আদর্শসহ আপনাদেরকে বর্জন করতে আমরা যুবসমাজ বাধ্য। ” মনুষ্যত্বের জয় হোক “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category