আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ১০:০৭

বার : শনিবার

ঋতু : শরৎকাল

মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়ম

এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের উপকরণ সামগ্রীর ব্যবহার ও প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সরকারি জায়গা থেকে ভিটে বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ নিয়ে এলাকার মানুষজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টিতে তিন তলা বিশিষ্ট বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বন্যা প্রবণ ও নদী ভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

 

দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান মেসার্স অমল কান্তি চৌধুরী নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্টান। এই কাজের জন্য প্রাক্কলিত মুল্য নির্ধারণ করা হয় তিন কোটি ৭৮লাখ ১৮হাজার ৯২৯টাকা। ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত বছরের ২৭জুলাই। কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে ২০২২সালের ৫ফেব্রুয়ারি। ঠিকাদার গত বছরের নভেম্বরের মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা তাদের ইচ্ছেমতো বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজ করে আসছেন।

 

ভবন নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের বালু ও পাথর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভবনের ঢালাইয়ের কাজে স্টিলের সার্টার ( ফর্মা) ব্যবহার করা কথা থাকলেও সেখানে কাঠের তৈরি ফর্মা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া সপ্তাহ খানেক সময় ধরে মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের সরকারি জায়গা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সেখান থেকে ভিটে বালু উত্তোলন করে তা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ভবনের ভিট নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

এতে করে দুই থেকে তিনশতক জায়গা জুড়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন ধরে ভিটে বালি উত্তোলন কাজ বন্ধ রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। মধ্যনগর পাবলিক পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের পেছনে সরকারি জায়গা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন কাজটিতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

 

ফলে সেখানে বড়ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার অমল কান্তি চৌধুরী নিজেকে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দাবি করে বলেন, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজে বালু, পাথর নিম্ন মানের ব্যবহার করার অভিযোগটি সঠিক নয়। ঢালাইয়ের কাজে স্টিলের ফর্মা দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টির উন্নয়ন কাজের স্বার্থে নিরুপায় হয়ে আমরা বিদ্যালয়ের পেছনের সরকারি জায়গা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভিটে বালু উত্তোলন করছি। তবে কোনো অনুমতি নেইনি।দলীয় কোনো প্রভাবও খাটাইনি।বন্যা প্রবণ ও নদী ভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের সুনামগঞ্জ জেলার তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী উছমান গণি বলেন, আমাকে একা পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় এরকম ২৫টি কাজ দেখভালো করতে হয়।

 

তাই নিয়মিত সেখানে থাকা সম্ভব হয় না। সরোজমিনে গিয়ে দেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন,আমি নিজেও ওই কাজের তদারকির দা্য়িত্বে আছি।কাজে কোনো অনিয়ম হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মর্তা ( ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার সরকারি জায়গা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেন নি । খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category