শিরোনাম
হলি আর্টিজান হামলার ৬ বছর;হয়নি মামলার নিষ্পত্তি। বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব আবু উল রশীদ এর পক্ষথেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয় লোভ-হিংসা ও সংকির্ণ মনোভাবের ঊর্ধ্বে ওঠে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে ——-সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী মাধবপুরে কৃষ্ণপুরের ব্রিজটি না হওয়াতে বিকল্প কাঠের সেতু তৈরী করে যানচলাচলে উপযোগী করছেন এলাকাবাসী জগন্নাথপুরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজাদ মিয়া ফরুকের পরিবারের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরণ মৌলভীবাজার সমিতি সিলেট এর ত্রান ও নগদ অর্থ বিতরন বৃষ্টির মধ্যেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন ইউ.কে প্রবাসী আলাউদ্দিনের পরিবার শাল্লা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ। ‘ভারত বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না’-অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ। সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

কমরেড ভগৎ সিং

Coder Boss / ৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

সত্যজিৎ দাস, বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি।

ভগৎ সিং এর নাম ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে । স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবীদের ভূমিকাকে কংগ্রেস নেতৃত্ব কখনোই সেইভাবে মর্যাদা দেননি । শ্রেণীগত কারণেই কংগ্রেস নিয়মতান্ত্রিকতার গণ্ডী অতিক্রম করে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জনতার পূর্ণ শোষণমুক্তির জন্য সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়নি ।
১৯২৯ সালের ৮ ই এপ্রিল তারিখে নয়াদিল্লীর কেন্দ্রীয় আইন সভায় ভগৎ সি এবং বটুকেশ্বর দত্ত
” ইনকিলাব জিন্দাবাদ ” রণধ্বনি দিয়ে বোমা নিক্ষেপ করেন ।
সেই সময় ভারতে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রসার এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের বিস্তার স্তব্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ দুটি বিল নিয়ে আসে । বিল দুটি ছিল :-
১) পাবলিক সেফটি বিল ।
২) ট্রেড ডিসপিউটস্ বিল ।
এই দুটি বিলের প্রতিবাদেই ভগৎ সিং এবং তাঁর সহকর্মী আইন সভায় বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন এবং কেন বোমা নিক্ষেপ করছেন তা ব্যাখ্যা করে একটি ইস্তাহার বিলি করেছিলেন । সেই ইস্তাহারের শিরোনাম ছিল :
” বধিরকে শোনাতে হলে জোড়ালো আওয়াজই
দরকার ” ।
ইস্তাহার শেষ করা হয়েছিল সেই সময়কার ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন শ্লোগান দিয়ে ।
শ্লোগানটি হলো : ” ইনকিলাব জিন্দাবাদ ” ।
একথা ঠিকই যে ” ইনকিলাব জিন্দাবাদ ” রণধ্বনি ভারতের কমিউনিস্টরাই প্রথম দিতে শুরু করেছিল ।
কিন্তু ভগৎ সিং এবং তাঁর সহকর্মীরাই তাঁদের বীরত্বপূর্ণ কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে এই রণধ্বনি ভারতীয় জনগনের অন্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন ।
আইন সভায় বোমা নিক্ষেপ এবং ইস্তাহার বিলি করার পর ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর বীরের মতন দাঁড়িয়ে ছিলেন ।
বিচারে দুইজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় ।
এরপরই তাঁদের লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয় ।
১৯২৭ সালে ‘ সাইমন কমিশন ‘ বয়কটকে কেন্দ্র করে সারা দেশ ধর্মঘট এবং সংগ্রামে উত্তাল হয়ে উঠেছিল । লাহোরের রাজপথে লাঞ্ছিত এবং গুরুতরভাবে আহত হন পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রায় এবং এর ফলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে ।
এই নৃশংস অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে ভগৎ সিং , রাজগুরু এবং শুকদেব অত্যাচারী পুলিশ অফিসার স্যান্ডার্সকে লাহোরের রাজপথে গুলি করে হত্যা করেছিলেন ।
লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হবার আগেই ভগৎ সিং এবং তাঁর সহকর্মীরা সমাজতন্ত্রের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন । তাঁদের পার্টীর নতুন নাম :
হিন্দুস্থান সোস্যালিস্ট রিপাব্লিকান পার্টীই তার সবচাইতে বড় প্রমাণ । সেই চিন্তাধারা আরও বলিষ্ঠ হয়েছিল কারা প্রাচীরের অন্তরালে ।
গভীর অধ্যয়ন এবং লাহোরের বোরস্টাল জেলে বন্দী অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ভগৎ সিং এর উপলব্ধি হয় যে ব্যক্তিগত সন্ত্রাসমূলক কাজের মধ্যে যদিও বীরত্ব রয়েছে তবু ঐ কাজকর্মের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবেনা । লক্ষ্যে পৌঁছাবার পথ হচ্ছে বিপ্লব – যে বিপ্লবে ব্যাপক জনসাধারণকে , শোষিত মানুষকে টেনে আনতে হবে ।
কারাগার থেকেই ১৯২৯ সালের ১৯ শে অক্টোবর পাঞ্জাব ছাত্র সন্মেলনে পাঠানো বাণীতে তিনি বলেছিলেন :
” আজকের দিনে যুবকদের আমরা পিস্তল ও বোমা হাতে নিতে বলতে পারিনা । যাতে আমরা স্বাধীনতা লাভ করতে পারি এবং মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণের অবসান করতে পারি তার জন্য আজকের দিনে তাদের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের এবং গ্রামাঞ্চলের কোটি কোটি বস্তিবাসী,জরাজীর্ণ কুটিরবাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে”।
ভগৎ সিং এর চিন্তাধারা যে ক্রমশই একজন প্রকৃত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী’র মতই পরিণতি লাভ করছিল তা বোঝা যায় ১৯৩১সালের ২ রা ফেব্রুয়ারী ” যুবা রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি ” তাঁর আবেদনের মধ্য দিয়ে :
” প্রকৃত বিপ্লবী সৈন্যবাহিনী রয়েছে গ্রামে গ্রামে , কারখানায় কারখানায় , এরা হচ্ছে কৃষক ও শ্রমিকেরা ” ।
এই আবেদনে ভগৎ সিং আরও বলেছেন :
” টেরোরিষ্টের মতো আমি কাজ করেছি । কিন্তু আমি টেরোরিষ্ট নই। আমি হচ্ছি বিপ্লবী। আমার বিপ্লবী জীবনের সূচনার দিনগুলি ছাড়া আমি কখনোই টেরোরিষ্ট ছিলামনা এবং এ বিষয়ে আমি স্থির নিশ্চিত যে,এই পন্থার মধ্য দিয়ে আমরা কোন কিছুই লাভ করতে পারবনা “।
তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের ভগৎ সিং মার্কস , লেনিনের লেখা পড়তে,তাঁদের শিক্ষাকে পথ নির্দেশ হিসাবে গ্রহণ করে জনগণের কাছে যেতে বলেছেন।
ভগৎ সিং লিখেছেন :
” লেনিনের অতি প্রিয় যেই জিনিসটা সেই প্রফেশনাল রেভলিউসনারীদের আমাদের প্রয়োজন – এরা হচ্ছেন সর্বক্ষণের কর্মী, বিপ্লব ছাড়া যাদের জীবনের আর কোন উচ্চাকাঙ্খা বা কাজ নেই ।
ভগৎ সিং আরো লিখলেন :
” সুসংবদ্ধভাবে অগ্রসর হতে হলে যেটা তোমাদের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেটা হলো একটা পার্টি ……..
পার্টির নাম হবে কমিউনিস্ট পার্টি ” ।
ভগৎ সিং তাঁর ২৪ বছরের জীবনকালে তিনটি শ্লোগান দিয়ে ভারতবর্ষের বিপ্লবী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করে গেছেন :-
১) বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক !
২) প্রলেতারিয়েত দীর্ঘজীবী হোক !
৩) সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক !
লক্ষণীয় , ভগৎ সিং কিন্তু ‘ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস
হোক ‘ শ্লোগান তোলেননি ।
অর্থাৎ সাম্রাজ্যবদী ব্যবস্থার , ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ধ্বংস সাধনই ছিল তাঁর লক্ষ্য ।
মামলা চলার সময়ই ভগৎ সিং ফাঁসির জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন । তিনি বলেছিলেন : ” এটা হচ্ছে দেশপ্রেমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছি বলে আমি গর্বিত ” ।
১৯৩১ সালের ২৩ শে মার্চ ভগৎ সিং সেই ‘ পুরস্কার ‘ পেলেন । ঐ দিন লাহোর সেন্ট্রাল জেলে ফাঁসি হলো
ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং শুকদেবের ।
দেশমাতৃকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং অসম সাহসী বিপ্লবী ভগৎ সিং দেশপ্রেমের ‘ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘ নিতে যাবার আগে কারাগারের নির্জন সেল থেকে পাঠরত যে বইটি বন্ধ করে বেরিয়ে এসেছিলেন সেই বইটির নাম হলো ” রাষ্ট্র ও বিপ্লব ” বইটি লিখেছেন পৃথিবীর শোষিত,নিষ্পেষিত,বঞ্চিত জনতার শ্রেষ্ঠতম বন্ধু এবং সাম্রাজ্যবাদের ত্রাস ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন