আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : ভোর ৫:৫৩

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

তাড়াইলে হ্যাকারের থাবায় উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

আল-মামুন খান, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট এর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একদল হ্যাকার।

জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকার কর্তৃক সীকৃতি প্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম পর্যন্ত চালু আছে সে সমস্ত বিদ্যালয় ও চা-বাগান অঞ্চলের অনুমতি প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ৬ ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল-জুন/২০২০ এর টাকা ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস “নগদ” এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট এর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির কোন অর্থ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সিমে টাকার মেসেজ পেলেও একাউন্টে টাকা দেখাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগদ এর মাধ্যমে টাকা ফেলেও হ্যাকাররা অভিভাবকদের ফোন দিয়ে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা একেক সময় একেক পরিচয় দিচ্ছে। কখনো উপপরিচালক, কখনো নগদের চেয়ারম্যান, কখনো নগদের ডিস্ট্রিবিউশন নামে পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব হ্যাকাররা।

এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের সাথে কথা বললে তারা জানান, ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস “নগদ” এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের জন্য অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ডাটা এন্ট্রি করতে হয়। এপ্রিল-জুন/২০২০ এর ডাটা নতুন নিয়মে প্রদান করার ফলে আমাদের অনেক কষ্ট করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রথম ১০ জানুয়ারি/২০২১ এর মধ্যে ডাটা প্রদান করার কথা থাকলেও জন্য নিবন্ধনের ত্রুটি থাকায় তা ধাপে ধাপে ২৫ জানুয়ারি/২০২১ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সিমে টাকা ছাড়ার পর অনেক অভিভাবক আমাদের কাছে এসে টাকা আসে নাই বলে অভিযোগ করছে। আমরা অনলাইনে চেক করে দেখছি যে যাদের তথ্য দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই টাকা পেয়েছে। পরে খোজ নিয়ে জানা যা কে বা কাহারা তাদের ফোন দিয়ে ওটিপি নাম্বার নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

অভিভাবকগণের সাথে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, আমাদের বিভিন্ন সময় কল দিয়ে উপবৃত্তি ফেয়েছি কিনা না জিজ্ঞাসা করা হয়। উপবৃত্তির টাকা আসছে কি না তা জানিনা বললে তারা আমাদের দুই তিন দিনের ভিতরে টাকা পাবার আশ্বাস দিয়ে একটি মেসেজ পাঠিয়ে বলে যে মেসেজের নাম্বারটি বলার জন্য। আমরা গ্রামের সহজ সরল মানুষ।মেসেজের নাম্বারটি বলার পর দেখি আমাদের সিমে নগদের একাউন্টে কোন টাকা নাই। অভিভাবকরা আরও বলেন, অনেক দোকানিও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নগদের টিএম, কিশোরগঞ্জ কে কল দিলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। নগদের অফিসিয়াল নাম্বারে (১৬১৬৭) কল দিয়ে কোন সারা পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category