আজ ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৪:৩২

বার : শুক্রবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

কেশবপুরে কুড়িয়ে আনা টিনের জর্দ্দার কৌটা খুলতেই বিস্ফোরণ স্কুল ছাত্র নিহত, আশঙ্কাজনক মা ও বোন

এস কে সুমন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:

কেশবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান (৮) নিহত হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হয় তার মা নিলুফা বেগম (২৭) ও ছোট বোন মারুফা খাতুন (৬)। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাউশলা গ্রামে। আহতদের উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে যশোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানায়, কুড়িয়ে পাওয়া কৌটাটি ছিল ককটেল।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাউশলা গ্রামের ভ্যানচালক মিজানুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান চাচা সিরাজুল ইসলাম ওরফে শের আলীর সঙ্গে বাড়ির পাশের বিলে জনৈক ব্যক্তির পরিত্যক্ত টোং ঘরের ভেতরে রেখে আসা স্যালোম্যাশিন আনতে যায়। স্যালোম্যাশিন নিয়ে ফেরার সময় ওই টোং ঘরের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো একটা কৌটা পেয়ে তারা হাতে করে নিয়ে আসে। ফিরে এসে চাচার বাড়িতে উঠানে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ওই কৌটা ভেতের কি আছে দেখার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান মারা যায়। গুরুতর আহত হয় তার মা নিলুফা বেগম ও ছোট বোন মারুফা খাতুন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত আব্দুর রহমান কেশবপুরস্থ একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সিকদার, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ ওহিদুজ্জামানসহ ডিবি পুলিশ বাউশলা বিলের টোংঘর, বিস্ফোরিত ঘটনাস্থল ও নিহত শিশুর বাড়ি পরিদর্শন করেন। নিহত শিশু আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর বলেন, বিস্ফোরণে আহত নিলুফা বেগম ও শিশু মারুফা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে নিহত শিশু আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দিগ্ধ এক জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category