আজ ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৪:৪৮

বার : শুক্রবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

শাহপরান (রহ.) মাজারের হামলার ঘটনায় মুসল্লীদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির মামলা

শাহপরান (রহ.) মাজারস্থ মসজিদে হাফেজ নিয়োগ নিয়ে রমজানের আগে থেকেই উত্তেজনার আশঙ্কা করেছিলেন এলাকাবাসী। এ কারনে ওপেন হাউজ ডে-তে পুলিশ কমিশনারের কাছে বিষয়টি জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ কমিশনারের পরামর্শ মতো তারা এসব বিষয় অবগত করে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাজারের বর্তমান দখলদার খাদিম অংশ মুসল্লিদের উপর হামলা চালিয়ে ভাংচুরের সাজানো ঘটনা সাজিয়ে মামলা করেছে। এই মামলা নিয়ে নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি জানিয়ে শনিবার (২৪ জুন) সিলেটের পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মাজার এলাকার অর্ধশতাধিক ধর্মপ্রান মুসল্লী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে তারা নিরপেক্ষ সংস্থা দ্বারা তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন- ২০২০ সালে মাজারস্থ মসজিদ ও মাদ্রাসায় মুহতামিম, খতিব, ইমাম, ছানী ইমাম নিয়োগ নিয়ে এলাকাবাসীর বিরোধ ছিলো। এই বিরোধের বিষয়টি জানিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়। এ নিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মসজিদে অস্থায়ী খতিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে- এবারের রমজানের পূর্বে একই ভাবে বিরোধ ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করেন এলাকাবাসী। এ কারনে গত ২৫ শে মার্চ শাহপরান থানায় ওপেন হাউজ ডেতে বিষয়টি অবগত করেন যুবলীগ নেতা বদরুল ইসলাম ও সাবেক সেনা সদস্য বিলাল আহমদ সহ এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বীরা। বিষয়টি জানার পর পুলিশ কমিশনার এ ব্যাপারে জিডি দায়েরের নির্দেশ দিলে এলাকার মানুষ গত ১০ই এপ্রিল থানায় জিডি করেন। গত ১৩ই এপ্রিল উত্তেজনা বিষয় জানিয়ে পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন এলাকার ১৬ বাসিন্দা।
এদিকে- পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ, থানায় জিডি ও সর্বশেষ পররাস্ট্রমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মাজারের বর্তমান দখলদার মোতাওয়াল্লী মামুনুর রশীদের লাঠিয়াল বাহিনীর ক্যাডাররা। তারা প্রথম তারাবাহির নামাজ শেষে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লী ও অভিযোগকারীদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হামলায় মুসল্লি বেলাল আহমদ সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুসল্লিদের উপর হামলা চালিয়ে দখলদার খাদিম অংশ তাদের চাদা আদায়ের আস্তানা গদিঘরে ভাংচুর করে। পরবর্তীতে ওই গদিঘর ভাংচুরের জন্য এলাকাবাসীকে দোষী করা হয়। যা আদৌ সত্য নয়। পরে শাহপরান থানা পুলিশ স্থানীয় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে ঘটনার ৬ দিন পর মামলা রেকর্ড করে।
স্মারকলিপি তারা জানান- শাহপরান থানায় খলিল আহমদের জিডি ও পুলিশ কমিশনার বরাবরে এলাকাবাসীর অভিযোগ দায়েরের পর সহকারী পুলিশ কমিশনার মাইনুল আবছার বিবদমান দু’পক্ষকে নোটিশ দেন। আর নোটিশ শুনানীর আগেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামুনুর রশীদের লাঠিয়াল জামাল আহমদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শাহপরান থানা পুলিশ এ মামলা রেকর্ড করেছে বলে দাবি করেন এলাকার মানুষ। এলাকার মানুষের পক্ষে স্মারকলিপি দাতাদের মধ্যে রয়েছেন এলাকার প্রবীন মুরব্বী আনসার মিয়া, আব্দুল মুমিন, মো. খলিল আহমদ, সুয়েব আহমদ, গৌছ উদ্দিন পাখি মেম্বার, পারভেজ মিয়া মহালদার সহ এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category