আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৮:৩১

বার : শনিবার

ঋতু : শরৎকাল

বাহুবলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির গৃহ নির্মাণ উপকরণ বিতরণে অনিয়ম;উপদেষ্টা কিছুই জানেন না

 

সত্যজিৎ দাস,বাহুবল প্রতিনিধিঃ

বাহুবলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাঝে গবাদি পশু’র গৃহ নির্মাণ উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৫৬টি পরিবারের মাঝে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীরা প্রাপ্ত উপকরণগুলো নিম্নমানের বলে দাবি করেছেন। এ উপকরণ দেওয়া হয়েছে গবাদি পশু প্রদানের ১ বছর পর। এতে করে উপকারভোগীরা প্রকৃত সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ২০২০-২১ অর্থ বছরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে “সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প” শিরোনামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। উল্লেখিত প্রকল্পের সূফলভোগীদের মাঝে প্যাকেজপ্রতি ১টি করে গবাদি পশু, পশু পালনের জন্য অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ, সুফলভোগীদের জন্য ১ দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান, আপদকালীন সময় ৩ মাসের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা, ১ বছরব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ভ্যাক্সিনেশন প্রদান করার কথা। কিন্তু উপকারভোগীদের অভিযোগ বর্ণিত সুবিধার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে তাও অত্যন্ত নিম্ন মানের। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত অর্থ বছরে সূফলভোগীদের জন প্রতি ১টি করে গবাদি পশু বিতরণ করা হয়। গবাদি পশু বিতরণের এক বছর পর পশু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গৃহ নির্মাণের উপকরণ দেওয়া হয় গত বৃহস্পতিবার। একজন উপকারভোগী ১৮০টি ইট (২নং), ঢেউটিন ৫টি (১৭ এমএম) ও নিম্নমানের ৪টি পিলার পেয়েছেন। যাহার সর্বমোট বাজারমূল্য ৩ হাজার টাকা হবে বলে সংশিশ্লষ্টরা ধারণা করছেন।
উপকরণ বিতরণকালে সরজমিনে দেখা গেছে, মালামালগুলো অত্যন্ত নিম্ন মানের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগী প্রতিটি পরিবার অস্থায়ী গৃহ নির্মাণের জন্য ৭ হাজার টাকা মূল্যের সমপরিমাণ ইট, ঢেউটিন ও পিলার পাওয়ার কথা। এ মালামালগুলো স্থানীয় ভাবে টেন্ডার আহ্বান করে সংগ্রহ করার বিধান আছে। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কোনরূপ টেন্ডার আহ্বান না করে ‘শ্রেয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে উপকরণগুলো সংগ্রহ করেছে। উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের কালিগজিয়া ত্রিপুরা পল্লীর মৃত বিধু দেব বর্মার পুত্র উপকারভোগী সুধাংশু দেব বর্মা জানান, গত(০২ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে খবর দিয়ে আমাদেরকে ১৮০টি ইট, ১৭ এমএমের ৫টি ঢেউটিন ও ৪টি পিলার দেয়া হয়েছে। এখানে প্রতিটি মালামালই নিম্নমানের। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি , কর্মকর্তারা ভুয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে নিজেরাই উক্ত নিম্নমালের মালামাল সংগ্রহ করেছেন।একই পল্লীর মৃত পপ সিং দেব বর্মার পুত্র বৃদ্ধ সঞ্জয় দেব বর্মা বলেন, গত বছর আমাদের মাঝে গবাদি পশু বিতরণ করা হয়েছিল। এর এক বছরেরও অধিক সময় পার করে গৃহ নির্মাণের এই নিম্নমানের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গবাদি পশু পাওয়ার সাথে সাথে গৃহ নির্মাণের উপকরণ না পাওয়ায় এর সঠিক সূফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

এ ব্যাপারে প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভাস্কর চন্দ্র তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সরকারি সকল নিয়ম মেনেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখানে কোনরূপ অনিয়ম হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বান এর কপি ও টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখতে চাইলে তিনি সদোত্তর দিতে পারেননি। এমনকি উপকারভোগীদের তালিকা সরবরাহ করার কথা বললেও তিনি সেটা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘শ্রেয়া এন্টারপ্রাইজ’ যদি নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শ্রেয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রুপক চন্দ্র দাশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ অফিসের কোটেশন অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মালামালের বর্ণনা, পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সদোত্তর দিতে পারেননি। মালামালের মান নিয়ে উঠা অভিযোগের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, তিনি এর দায় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার উপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা তালুকদারকে মোবাইল ফোনে অনিয়মের বিষয়টি তোলে ধরলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে এখনও আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঐদিকে প্রকল্পের উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, আমার সাথে কোনরূপ আলাপ-আলোচনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনগড়া ভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন। উপকরণ বিতরণের দিন আমি আরেকটা প্রোগ্রাম থেকে ফিরলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুরোধে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি।কিন্তু এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category