আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ১২:৪১

বার : সোমবার

ঋতু : হেমন্তকাল

বান্দরবান ১১ স্কুলের ৪৪ জন শিক্ষকের পরিবারে হাহাকার

জসিম উদ্দিন, বান্দরবানঃ

বান্দরবান জেলার ১১ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ৪৪ জন শিক্ষক দুই যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয় জাতীয়করণ হবে, এই আশায় তাঁরা সম্পূর্ণ বিনাবেতনে এই শ্রম দিচ্ছেন।জাতীয়করণ করার সব শর্ত পূরণ করায় জাতীয়করণ সংক্রান্ত জেলা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করার পরও বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্টান আদৌও জাতীয়করণ হবে কি না সে বিষয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তায়। বেতন বা সম্মানি না পেয়ে অনেক শিক্ষক অনাহারে অর্ধহারে মানবেতর দিন যাপন করছেন।
বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় ১১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জাতীয়করণ হয়নি, সেগুলোর মধ্যে সদর উপজেলা ৫ টি, লামায় ৪ টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২ টি স্কুল রয়েছে।

এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও সমাপনী পরীক্ষার সনদ ছাড়া সরকারিভাবে আর কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না।

প্রত্যেক স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষকসহ ৪৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।
বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিগত ৯ জানুয়ারি ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দাপে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।সেই আলোকে জাতীয়কর সংক্রান্ত জেলা কমিটি এই ১১ টি স্কুল তৃতীয় দাপে জাতীয়করণ করার জন্য ২০১৩ সালের ২১ আগষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ কমিটির নিকট সুপারিশ পাঠান। পার্বত্য বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বান্দরবানের ১১ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিও(চাহিদা পত্র)দিয়েছিলেন।বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা ও এই ১১ টি স্কুল জাতীয়করণ করার জন্য ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

লামা উপজেলার মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে বিনাবেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ না হওয়ায় বিনাবেতনে ছাত্র ছাত্রী মাঝে পাঠদান দিতে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নানান জনের কটুকথাও শুনতে হয়।

সদর উপজেলার হেব্রন পাড়া বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক লালারাম নোয়াম বম বলেন, জেলার অনেক বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ হলেও তাঁরটিসহ জেলার মোট ১১ টি স্কুল জাতীয়করণ হয়নি।

লামা উপজেলার নুনাঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা ছৈয়দা শাহনাজ পারভিন বলেন, সব শর্ত পূরণ করার পরেও দীর্ঘ দিন থেকে এই ১১ টি স্কুল জাতীয়করণের আওতায় না আসায় তাঁরা ৪৪ জন শিক্ষক খুব মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি অনেক শিক্ষকের চাকুরীর বয়স চলে গেছে। আদৌ জাতীয়করণ হবে কি না এই অনিশ্চিতায় শিক্ষকদের মাঝে হাতাশা কাজ করছেন।
এই মানবেতরজীবনযাপনকারী শিক্ষকেরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, জেলার ১১ টি বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category