শিরোনাম
শাল্লা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ। ‘ভারত বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না’-অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ। সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার সিলেটে বৃষ্টি,আবারও বন্যার পানি বাড়তে শুরু করেছে সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময় সাতক্ষীরার আশাশুনি বিভিন্ন সড়কে পুলিশের অভিযান চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রেগুলিতে বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হিলফুল ফুজুল তরুণ সংঘের সম্মানিত উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যর প্রবাসী সামছুল আলম খান শাহীন মহোদয়কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় সাতক্ষীরা আশাশুনিতে মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী দিবস পালিত
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

‘মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট’ ভেঙে ফেলা বন্ধে ১৮ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি ।

Satyajit Das / ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২২

সিলেট নিউজ ডেস্ক:


‘মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট’ বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা চিত্রশিল্পী শশীভূষণ পালের হাতে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এই ঐতিহাসিক স্কুলটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্ট নাগরিক। অবিলম্বে ফেসিলিটিজ অধিদপ্তরকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শত বছরের পুরানো স্থাপনাটিকে  প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অধীনে এনে ‘শশীভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘর’ এ রূপ দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘পূর্ব বাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশের শিল্পরুচি-বোধ, ইতিহাস,ঐতিহ্যের স্মারক ১৯০৪ সালে শিল্পী শশিভূষণ পাল কর্তৃক স্থাপিত দেশের প্রথম অংকন শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট। নিজ বাড়িতে তিনি এই শিল্প বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন শশীভূষন পাল। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯২৯ সালে নিজ বাড়িতেই চিত্রশিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুরম্য ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনটিতে দীর্ঘ সময় আর্ট স্কুলের কার্যক্রম চলে। বর্তমানে ঐতিহ্যের স্মারক এ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করাহয়েছে। আমরা ফেসিলিটিজ অধিদপ্তরের এহেন দায়িত্ব জ্ঞানহীন ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধ্বংসের কর্মকাণ্ডে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ ‘-সোমবার (১০ জানুয়ারি) মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক এবং মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।
১৯৭৪ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও কবি জসিমউদ্দীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের প্রথম অংকন শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর মর্যাদা দিয়েছিলেন।১৯৮৩ সালে আর্টস্কুলটি খুলনা শহরে স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা আর্ট কলেজ ও বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা আর্ট ইনস্টিটিউট হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে।

Historical school

১৯২৯ সালে বর্ধমানের মহারাজাধিরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারিভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বছরের ১৯ মে ভবনটির উদ্বোধন করেন সেই সময়ের খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর এইচ কুইনন্টন। ভবনের দেয়ালে থাকা শিলিলিপিতেই এসব তথ্য লেখা আছে। একতলা ভবনটি চুন-সুরকি আর ইটের গাঁথুনিতে তৈরি। বারান্দার সামনে ছয়টি প্রবেশপথসহ মোট ৯টি দরজা রয়েছে। ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য আর ২৫ ফুট প্রস্থের ভবনটির দরজা-জানালাগুলো বেশ প্রশস্ত। লোহার পাতের ওপর মাটির টালি বসিয়ে তার ওপর ছাদ ঢালাই দেওয়া। ভবনের গায়ে কয়েকটি অশ্বত্থগাছ বড় হয়ে উঠছে।

খুলনা অঞ্চলের ইতিহাসের গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯০৪ সালে বাংলাদেশ ভূসীমানায় প্রথম শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন শশীভূষণ পাল। বর্তমান যশোর রোডের পূর্ব পাশে নিজ বাড়িতে মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট নামে এই অঙ্কন বিদ্যাপীঠটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়,সে সময় পূর্ববঙ্গে আর কোনো শিল্প-শিক্ষায়তন ছিল না। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি জেলা বোর্ড ও সরকারি অনুদান পেতে শুরু করে। ১৯২৯ সালে বিদ্যালয়টি যশোর রোডের পশ্চিম পাশে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেই সরকারি ভবটি গড়ে ওঠে। এই শিক্ষায়তনে প্রায় ৪১ বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শশীভূষণ পাল। বাংলার গভর্নর, বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতব, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পল্লিকবি জসিমউদ্দীন,আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী এস এম সুলতানসহ দেশি–বিদেশি অনেক শিল্পরসিক এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এসেছিলেন। জয়নুল আবেদিনও এটাকে এই বঙ্গের প্রথম শিল্প–শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সময়ের পরিক্রমায় মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট নামের সেই বিদ্যায়তনটি খুলনার গল্লামারী এলাকায় স্থানান্তরিত করে ১৯৮৩ সালে প্রথমে শশীভূষণ আর্ট কলেজ,পরে খুলনা আর্ট কলেজে রূপান্তরিত হয়। ২০০৯ সালে সেটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চারুকলা ইনস্টিটিউট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নগরের দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা কুলিবাগান এলাকায় শুরুর দিকের ওই সরকারি ভবনটিতে প্রায় চার দশক আগে শশীভূষণ শিশু বিদ্যা নিকেতন গড়ে তোলেন স্থানীয় সুধীজনেরা। এরপর ১৯৮০ সালে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯১ সালের দিকে সেখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে ওই কমপ্লেক্সেই তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,গত বছরের ১৯ জানুয়ারি মহেশ্বরপাশা আর্ট স্কুলটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কি না,তা জানতে অধিদপ্তরকে চিঠি দেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এর উত্তরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে লিখিত আকারে জানান,ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি স্থাপনা। এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি নয়। শশীভূষণ প্রথম এই বাংলায় চিত্রশিল্প বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বিদ্যালয়টির সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিকাশের ধারাবাহিকতা ও স্থানীয় মানুষের আবেগ সম্পৃক্ত আছে। বিশেষ ব্যক্তিত্বের স্মারক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের জন্য ট্যুরিজম অ্যাক্ট ২০১০ অনুয়ায়ী সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার স্থানীয় সরকার পরিষদ বা জেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে। সিটি করপোরেশন,স্কুল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সংস্কার সংরক্ষণে কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে।

শশীভূষণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে,মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও পুরোনো ওই ভবনটিতে পাঠদান করা হতো। পরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে সেখানে আর পাঠদান হয় না। ২০১৬ সালের দিক থেকে ভবনটি অপসারণে বিভিন্ন সময় সভা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট খুলনা সিটি করপোরেশনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে খুলনা নগর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণের জন্য এক সভা হয়। সভায় সেই সময়ের কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান দৌলতপুরের শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শত বছরের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয় এবং এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভবনটি বিধি মোতাবেক ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের তখনকার প্রধান শিক্ষক নাহিদ সুলতানার কাছে চিঠি পাঠায় কেসিসি।

এরপর ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্যে থাকা পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে এর আদলে অন্য একটি ভবন নির্মাণ করা এবং সেই ভবনের সামনে শশীভূষণ পালের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি বিএল কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক শঙ্কর কুমার মল্লিক বলেন, ‘ এটাই এই বঙ্গের প্রথম শিল্প–শিক্ষা কেন্দ্র। এর সঙ্গে একটা ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জুড়ে আছে। এটা অবশ্যই বাঁচানো দরকার। এই গুরুত্ব বিবেচনায় এই ঐতিহ্যকে রেখে সরকারি উদ্যোগে একটা আর্ট গ্যালারি করলে শিল্পী শশীভূষণ পাল যেমন এর ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকবেন, তেমনি ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা আছে, সেটিও প্রকাশ পাবে ‘।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শেখ সাদী ভূঁঞা বলেন, ‘ শতাব্দীর প্রাচীন পথিকৃৎ শিল্পী শশীভূষণ পাল রায় সাহেবের স্মৃতি বিজড়িত ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। যেভাবেই হোক ভবনটি সংরক্ষণ করা উচিত ‘।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন,’ সিটি করপোরেশন থেকে ভবনটি অপসারণের চিঠি পাওয়ার পর ভবনটি অপসারণ করে এরই আদলে নতুন একটি ভবন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য গত ২১ ডিসেম্বর পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি ভবনটির দরপত্র জমার শেষ দিন ছিল এবং ঐদিন মোট ছয়টি দরপত্র পড়েছে ‘।

বিবৃতিতে সাক্ষর দাতা অন্যান্যরা হলেনঃ-

(১)আব্দুল গাফফার চৌধুরি।

(২) সৈয়দ হাসান ইমাম।

(৩) অনুপম সেন।

(৪) রামেন্দু মজুমদার।

(৫) ফেরদৌসী মজুমদার।

(৬) সারওয়ার আলী।

(৭) আবেদ খান।

(৮) সেলিনা হোসেন।

(৯) লায়লা হাসান।

(১০) আবদুস সেলিম।

(১১) মফিদুল হক।

(১২) শফি আহমেদ।

(১৩) শাহরিয়ার কবির।

(১৪) নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

(১৫) মুনতাসীর মামুন।

(১৬) সারা যাকের।

(১৭) শিমূল ইউসুফ।

(১৮) গোলাম কুদ্দুছ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন