বিশেষ প্রতিনিধি:
শুধু জন্মহার নয়,দেশত্যাগের পেছনে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা,জমি হারানোর ভয়,সাম্প্রদায়িক হামলা ও বিচার না পাওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসাব দেখলে একটি বিষয় চোখে পড়ে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ১৯৭৪ সালের প্রথম জনশুমারিতে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলেন হিন্দু। ২০১১ সালের জনশুমারিতে সেই হার নেমে আসে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারিতে তা দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশে।
এই হিসাব সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কেন এমন হচ্ছে? একটি জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার অনুপাত কমে যাওয়ার পেছনে জন্মহার,মৃত্যুহার ও দেশত্যাগের মতো কারণ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু জনসংখ্যাবিজ্ঞানের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে অনেক বাস্তবতা আড়ালে থেকে যাবে।
কারণ,এ দেশের বহু হিন্দু পরিবারের কাছে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কোনো শখের বিষয় নয়। কারও কাছে এটি উন্নত জীবনের সন্ধান,আবার কারও কাছে দীর্ঘদিনের ভয়,অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তির চেষ্টা।
একজন মানুষ যখন নিজের জন্মভূমি ছেড়ে অন্য দেশে চলে যান,তখন তাঁর সঙ্গে শুধু একটি পরিবার যায় না। ফেলে যান পৈতৃক বাড়ি,শৈশবের স্মৃতি, প্রতিবেশী,আত্মীয়স্বজন,মন্দির,উৎসব এবং পরিচিত একটি সমাজ। এত সহজে কেউ নিজের শেকড় ছেড়ে যেতে চান না। তাহলে কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন মানুষকে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়?
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ উঠলে জমি ও সম্পত্তির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি আইন কার্যকর করে। এ আইনের প্রয়োগে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ তাঁদের জমিজমা ও সম্পত্তি নিয়ে সংকটে পড়েন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও সেই সম্পত্তি-সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়নি। পরবর্তী সময়ে তা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে পরিচিতি পায়। আইনের অপব্যবহার, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের গবেষণায় অর্পিত সম্পত্তি আইনের কারণে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সম্পত্তি হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বিপুল পরিমাণ জমি এবং বহু পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশোধনীও এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো,যাঁদের জমি অন্যের দখলে চলে গেছে, তাঁদের সবাই কি জমি ফিরে পেয়েছেন? বছরের পর বছর মামলা চালিয়েও যাঁরা প্রতিকার পাননি, তাঁদের কাছে আইনের সুফল কতটুকু পৌঁছেছে?
গ্রামের বাস্তবতায় এখনো এমন অভিযোগ শোনা যায়,জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কখনো কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়, কখনো ভয়ভীতি দেখানো হয়। কোথাও আবার জাল কাগজপত্র কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠে।
একটি পরিবার যখন দেখে,নিজের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা করতেই তাকে বছরের পর বছর লড়তে হচ্ছে, তখন পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়,নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কতটা বদলায়?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কখনো নির্বাচনের পর,কখনো রাজনৈতিক সংঘাতের সময়, আবার কখনো স্থানীয় বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসে,ক্ষমতা হারায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে অনেক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটায়।
কোনো পরিবারের সদস্য যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না-ও থাকেন,তবু শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁকে ঝুঁকিতে পড়তে হয়,এমন অভিযোগও রয়েছে। আবার ব্যক্তিগত বিরোধ,জমি দখল কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করা যায় না।
আমি মনে করি,এখানে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় বিষয় হওয়া উচিত মানুষের নিরাপত্তা। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক,একজন নাগরিকের বাড়িঘর, সম্পত্তি ও ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা,পোস্টের উৎস কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লিতে হামলা হয়। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ দাসের নামে ফেসবুক পোস্টের অভিযোগ তুলে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়।
২০১৭ সালে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় টিটু রায়ের ফেসবুক পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিপ্লব চন্দ্র দাসের ফেসবুক আইডি-সংক্রান্ত অভিযোগে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে ঝুমন দাসের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের ফল আলাদা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শত শত নিরীহ মানুষের বাড়িঘর,মন্দির কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো কোন ধরনের বিচার?
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো,ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়,রাজনৈতিক বক্তব্য আসে,তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর অনেক সময় বিষয়টি মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু যে পরিবারটি বাড়ি হারিয়েছে,যে মানুষটি আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছে,তার জীবনে সেই ক্ষত থেকে যায়।
হামলার শিকার হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রথমে প্রশাসনের কাছে যান,থানায় মামলা করেন,বিচার চান। কিন্তু মামলা হওয়ার পরও যদি প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি না পায়,তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
কোনো বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো,মন্দির ভাঙচুর করা হলো, জমি দখল করা হলো কিংবা কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধীর ধর্ম,রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে বিচার হলে চলবে না।
একটি ঘটনার বিচার না হওয়া পরবর্তী অপরাধের পথ তৈরি করতে পারে। অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে,প্রভাব খাটিয়ে কিংবা সময়ক্ষেপণ করে পার পাওয়া সম্ভব,তখন ভুক্তভোগীর নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়।
এখানে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায়িত্ব রয়েছে। শুধু সম্প্রীতির বক্তব্য দিলেই হবে না,বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
হিন্দু জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার অনুপাত কমার পেছনে তুলনামূলক কম প্রজনন হারও একটি কারণ। বিভিন্ন জনমিতিক বিশ্লেষণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় গড়ের তুলনায় সন্তান জন্মদানের হার কম হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
শিক্ষা,কর্মসংস্থান,নগরায়ণ,বিয়ের বয়স এবং পরিবার পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু জন্মহার দিয়ে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না।
কারণ,কেউ যদি উন্নত শিক্ষা বা চাকরির জন্য বিদেশে যান,সেটি এক ধরনের অভিবাসন। আবার কেউ যদি নিজের বাড়িঘর ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে দেশ ছাড়েন,সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা।
এই দুই অভিজ্ঞতাকে এক করে দেখলে প্রকৃত সমস্যাটি বোঝা কঠিন হবে। তাই হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগের প্রকৃত কারণ জানতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণা প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগে দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার বেশি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এই হার ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০১১ সালে ছিল ১৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।
মৌলভীবাজারসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। চা-বাগান,কৃষি,ব্যবসা,শিক্ষা,সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অবদান রয়েছে।
কিন্তু এই অঞ্চলেও জমিজমা নিয়ে বিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা,কর্মসংস্থান এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।
কোনো এলাকায় একটি পরিবার দেশ ছেড়ে চলে গেলে তার কারণ কী,সেটি জানা জরুরি। তারা কি স্বেচ্ছায় উন্নত জীবনের জন্য গেছে,নাকি কোনো চাপ,ভয় কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই লড়েছেন। এই দেশের মাটি,ইতিহাস,সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে।
তাহলে স্বাধীনতার এত বছর পরও একজন নাগরিককে কেন ভাবতে হবে,তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তিনি নিরাপদ কি না?
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই,যেখানে একজন হিন্দু নিশ্চিন্তে নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন। একজন মুসলমান তাঁর প্রতিবেশী হিন্দু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবেন। কোনো মন্দিরে হামলা হলে সবাই প্রতিবাদ করবেন, কোনো মসজিদে হামলা হলেও সবাই প্রতিবাদ করবেন। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের মাপকাঠি।
কোনো পরিবার যেন জমি হারানোর ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়। কোনো নারী যেন ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে নির্যাতনের শিকার না হন। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা না হয়।
জনসংখ্যার অনুপাত কমে যাওয়ার হিসাব নিয়ে আলোচনা অনেক হয়েছে। এখন প্রয়োজন এর পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা। সরকারকে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে হবে, প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ,দেশ শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নয়, দেশ সবার। এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। কারও জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার পেছনে যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অভাব,সামাজিক বৈষম্য কিংবা বিচার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা কাজ করে,তাহলে সেই বাস্তবতা স্বীকার করতেই হবে।
একটি পরিবারও যেন নিজের জন্মভূমিতে পরবাসী হয়ে না থাকে। মানুষ যেন দেশ ছাড়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য,ভয়ে কিংবা অসহায় হয়ে নয়।
এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.