বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

‘সোনালী চাকমা’র পাশে মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

সত্যজিৎ দাস / ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:

সোনালী চাকমা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়ার পাকোজ্জ্যাছড়ি এলাকার কালাবো চাকমার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর সন্তান নিয়ে পৈত্রিক ভিটায় গোয়াল ঘরের পাশে থাকেন। তার বড় দুই ছেলের একজন বিয়ে করে আলাদা আর মেঝো ছেলে খাগড়াছড়ি সদরে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

অর্থকষ্ট ও দারিদ্র্যতায় নিজে নাড়ি ছেড়া ধনকে বিক্রি করতে যাওয়া সেই অসহায় সোনালী চাকমা ও তার সন্তান রামকৃষ্ণের পাশে ১ মাসের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়ালো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” Human services and Education Welfare Foundation”-মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

খাগড়াছড়ির জেলা সদরের ভাইবোন ছড়া ইউনিয়ন এর পাকুজ্জাছড়া এলাকার অর্থকষ্টে ছেলেকে বিক্রি করতে যাওয়া সেই অসহায় সোনালী চাকমা ও তার সন্তান রামকৃষ্ণের পাশে ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়ালো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবসেবা শিক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) দুপুর ২টার সময় সংগঠন এর নেতৃবৃন্দরা তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেন এবং খাদ্য ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।এই সহায়তা প্রদানে উপস্থিত ছিলেন মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সম্মানিত সভাপতি মতিউর রহমান,সহ-সভাপতি অরুণ কুমার শীল, সাধারণ সম্পাদক মিঠুন সাহা,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অনুরুপা ত্রিপুরা,অর্থ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন,সদস্য জয়া দেব,অন্তু সাহা রিমি,ফরহাদ হোসেন।

এই সময় সংগঠন এর সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,’ এই অসহায় সোনালী চাকমা ও সন্তান রামকৃষ্ণের পাশে মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন মানবতার কল্যাণে ছুটে গেছে। আমরা ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছি তাদের। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা যেন কখনো আর না ঘটে তার জন্য সমাজে যারা বিত্তবান আছে তাদেরকে নিজ নিজ এলাকার মানুষের খোঁজ খবর রাখা দরকার।আমাদের সমাজে যারা পিছিয়ে আছে আমরা যদি তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে আমাদের সমাজটা খুবই সুন্দর হবে ‘।

খাদ্য ও শিক্ষা সামগ্রী গুলোর মধ্যে ছিলো;- চাল, ডাল,তেল,লবণ,চিনি,আলু,চা পাতা,ডিম, পেঁয়াজ,মুড়ি,বিস্কুট ইত্যাদি। এইছাড়াও শিশু রামকৃষ্ণের জন্য কিছু ভালো মানে শিশুতোষ বই,খাতা,পেনসিল, রাবার,চকলেট,খেলার জন্য বল , সোনালী চাকমার জন্য থামি ও রামকৃষ্ণ এর জন্য কিছু শার্ট,প্যান্টসহ আনুষঙ্গিক কিছু দেয়া হয়েছে ।

উল্লেখ্য যে,গত বৃহস্পতিবার ১১ আগষ্ট সোনালী চাকমা নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় খাগড়াছড়ি বাজারে অভাবের তাড়নায় নাড়ি ছেড়া ধন সন্তানকে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।দাম হাঁকেন মাত্র ১২ হাজার টাকা। তখন বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা একজন তার ছেলেকে ৫ হাজার টাকায় কিনতেও চান। কিন্তু সোনালী চাকমা কম দামে বিক্রি করতে রাজি হননি। একপর্যায়ে বিষয়টি কয়েকজনের নজরে এলে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। পরে কমলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুনীল জীবন চাকমার হস্তক্ষেপে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন