মোহাম্মদ রেজাউল মাসুদ (এডিশনাল ডিআইজি,সাইবার পুলিশ সেন্টার,বাংলাদেশ):
একজন ভালো শিক্ষক আশা জাগিয়ে তুলতে পারেন, কল্পনাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন এবং শেখার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে পারেন।
ব্র্যাড হেনরির এই উদ্ধৃতিটি একজন শিক্ষকের প্রভাবের সারমর্মকে সুন্দরভাবে ধারণ করে। একজন প্রিয় শিক্ষক আহাম্মদ স্যার আমায় শুধু জ্ঞানই দেননি বরং শেখার এবং বেড়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষার জন্ম দিয়েছেন,যা আমার জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
গ্রামের স্কুলে ক্লাশ থ্রীতে উঠতেই আমার বিচক্ষণ মা দুরবর্তী এক স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় ওই স্কুলটির বেশ নামডাক ছিল। আব্বা ছিল আবার সেখানকার হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। আব্বার হাত ধরে ভর্তি হই বাড়ী থেকে ৫ কিলোমিটার দুর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের জোকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সৌভাগ্যক্রমে তখন কিছু ভালো মানুষ ও ভালো শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিলাম।
আমার প্রতি স্যারদের অন্যরকম ভালোবাসা দেখেছিলাম। তাঁদের মধ্যে আহাম্মদ স্যার,আজিজ স্যার,ফজলু স্যার,রাজা স্যার,ইব্রাহিম স্যার অন্যতম। এই মানুষদের তত্ত্বাবধানে কাটিয়েছি প্রাথমিক জীবনের মূল্যবান তিনটি বছর।
যত রকম দুষ্টুমি করেছি,তা থেকে রক্ষা করে দিতেন আমার সবচেয়ে প্রিয় আহাম্মদ স্যার। এই মানুষটি আমাকে এত বুঝতেন যে পৃথিবীর সবকিছু আমার কাছে কেমন জানি সহজ মনে হতো। পড়ানোয় আহাম্মদ স্যারের স্পেশাল কেয়ারের কথা এখনো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আব্বার প্রচন্ড ভক্ত ছিলেন তিনি। বৃত্তি পরীক্ষার দিনগুলোয় আহাম্মদ স্যার খোঁজ নিতে বাড়ী পর্যন্ত যেতো। কতটুকু মমত্ববোধ থাকলে এ রকম অনুভূতি মানুষের জীবনে আসে। সে যা-ই হোক,স্যারের কল্যাণেই সেবারের বৃত্তি পরীক্ষায় আশেপাশের স্কুলগুলোর মধ্য কেবল আমিই বৃত্তি পেয়েছিলাম।
আহাম্মদ স্যার অত্যন্ত যুক্তিবাদী মানুষ। তাঁর পড়ানোর কায়দা আমাকে দারুনভাবে উৎসাহিত করত পড়ার জন্য। বিভিন্ন ধরনের বই তিনি আমাকে কিনে এনে দিতেন। আর বলতেন, ‘‘পড়ার বই যেমন পড়তে হয়,তেমনই কিছু বাইরের বইও পড়তে হয়।’’ তিনি আমাকে অনেক বিজ্ঞানী,সাহিত্যিক ও মহান ব্যক্তির কথা এবং তাঁদের আবিষ্কার, উপন্যাস, তাঁদের জীবনে বড় হয়ে ওঠা, তাঁদের পরিশ্রমের কথা সম্বন্ধে বলতেন এবং সেই সঙ্গেই পড়াতেন।
স্বপ্ন দেখা বা এগিয়ে যাওয়ার যে শিক্ষা আহাম্মদ স্যার দিয়েছিলেন,আত্মবিশ্বাসের সলতেতে যে আলো জ্বেলে দিয়েছিলেন তাতে ঋদ্ধ হয়েছে আমার জীবন। আমাকে নিজের ওপর আস্থা রাখা, এমনকি স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন যা পরবর্তীতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ধারাবাহিক ভাল ফলাফল অর্জন এবং একজন ভাল মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
তিরমিজি শরিফের এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।”
পবিত্র কোরআনে সূরা তওবায় আল্লাহ বলেন,“শিক্ষকগণ আল্লাহর ওয়ালী,সুতরাং তাদেরকে সম্মান করো।”
সিলেট নিউজ/এসডি.