সোমা ঘোষ মণিকা: (প্রথম পর্ব)
মানব সমাজে হিংসা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলেও, “যৌন হিংসা” বিষয়টি বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। এটি নিছকই যৌন চাহিদা নয়,বরং একজন মানুষ যখন কারো যৌন আকর্ষণ, সঙ্গ, ঘনিষ্ঠতা বা প্রাপ্তি দেখে নিজেকে অবদমিত, বঞ্চিত বা হেয় মনে করে,তখন যে মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়,তাকেই যৌন হিংসা বলা যেতে পারে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয় লিঙ্গেই এই হিংসার প্রকাশ ঘটে। তবে এই প্রবন্ধে আমরা নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যৌন হিংসার রূপ ও প্রতিক্রিয়াগুলি বিশ্লেষণ করবো।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী পুরুষের যৌন চাহিদা নারীর তুলনায় বেশি,এই ধারণা অনেকাংশেই সমাজের তৈরি। মনস্তত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব ও জীববিজ্ঞানের আলোকে দেখা যায়,নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা কখনোই পুরুষের চেয়ে কম নয়;বরং তা হয় সূক্ষ্ম, আবৃত ও জটিল। এই চাহিদা যখন পূরণ হয় না,তখন তা হিংসা,হতাশা ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
Sex বা যৌন হিংসা আর দশটি সাধারণ রিপুর মতো মনে হলেও এটি সাধারণ নয়। মানব সভ্যতার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পারিবারিক,সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এর প্রভাব বিস্তর ও গুরুত্বপূর্ণ।
যৌন হিংসা একজন ব্যক্তিকে শারীরিক,মানসিক,সামাজিক ও আইনীভাবেও বিপর্যস্ত করে থাকে।
আমরা সবাই নারীর মন নিয়ে কম-বেশি আলোচনা,সমালোচনা করে থাকি। এই পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ নারী কেন্দ্রিক। ব্যবসা-বাণিজ্য,শিল্প-সাহিত্য থেকে শুরু করে মানব সভ্যতাকে ধারণ ও বহনের জন্য নারী অপরিহার্য।
এই অপরিহার্য নারীরও রয়েছে যৌন হিংসা,যা শুনতে অস্বস্তিকর হলেও নির্মম সত্য। নারীর শরীর সাধারণত কোমল,মসৃণ এবং সমাজে আবেদনময় রূপে উপস্থাপিত হয়। একজন নারী তার সৌন্দর্য,পোশাক, সাজ-সজ্জা,শরীরচর্চা-সবকিছুতেই অধিক গুরুত্ব দেন,কারণ এটাই সামাজিকভাবে তার “মূল্য” হিসেবে তুলে ধরা হয়।
অনেক ক্ষেত্রেই এর মূলে থাকে একজন উপযুক্ত শয্যাসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। যদি সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকে,তখন নারী ভেতরে একধরনের বিষণ্ণতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।
এই যে একজন নারীর জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় শুধু নিজের দেহের পিছনে ব্যয় করেন,এর মূল কারণ একজন শক্ত,সামর্থ্যবান পুরুষের শয্যা সঙ্গিনী হওয়া।
যদি কোন নারী তার মীট বা ইন্টিমেট সময় উপযুক্ত শয্যাসঙ্গী না পান,তবে সেই নারী হিস্টেরিয়ায় আক্রান্ত হন। অনেক সময় দেখা যায়,একটি পরিবারে সমস্যার শুরু হয় তখনই যখন নতুন কোনো নারী সেই সংসারে আসে। একজন স্ত্রী হিসেবে নারী ভালো থাকলেও,যখন সেই নারী তার পাশে আরেকজন নারীকে যৌন-প্রতিযোগী হিসেবে দেখতে শুরু করেন:তখন শুরু হয় দ্বন্দ্ব।
যেমন: পুত্রবধূ এবং শ্বাশুড়ির সম্পর্ক। অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক বিষয় মোড়ক হিসেবে থাকলেও মূল কারণ থাকে যৌন হিংসা।
দেবরের সঙ্গে বিবাহিতা নারীর সম্পর্ক অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিকভাবে “দ্বিতীয় বর” হিসেবে কাজ করে। বাস্তবিক শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও মানসিকভাবে একধরনের যৌন তৃপ্তি তৈরি হয়,যা শ্বশুর বা ভাসুরের সাথে হয় না।
একজন নারী আরেকজন নারীকে হিংসা করেন,এটি আমরা সামাজিক বাস্তবতা হিসেবেই ধরে নিই। কিন্তু এই হিংসার মূল কারণ কী?
একজন সুন্দরী নারী সহজেই পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ফলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং অনেক কিছু সহজেই পেয়ে যায়।
অন্যদিকে,অপেক্ষাকৃত কম সুন্দরী নারীরা নমনীয় ও শান্ত হয়, কারণ তারা জানে,শারীরিক সৌন্দর্যে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে আছে। তাই তারা মধুর ব্যবহার বা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়।
নারী মাত্রই যৌনসঙ্গী হতে চায়,এটি কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য নয়,বরং প্রাকৃতিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ। যখন সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় না,তখন তা রূপ নেয় হিংসায়। এই হিংসা কখনো মনকে পুড়িয়ে দেয়,কখনো সমাজে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে,আর কখনো সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে।
চলবে…
সিলেট নিউজ/এসডি.