বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ চা জনগোষ্ঠীর প্রথম গ্র্যাজুয়েট,মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং দেশের মুক্তিকামী মানুষের অধিকার আদায়ের নিরলস সংগ্রামী শহীদ পবন কুমার তাঁতী–র ৫৪তম শহীদ দিবস আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও অবহেলিত চা শ্রমিক সমাজের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন-এই স্মৃতিতে রাজঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আজ অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শহীদ পবন স্মৃতি উদযাপন কমিটি,এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বাগান পঞ্চায়েত কমিটি,চা শ্রমিকবৃন্দ,রাজঘাট ছাত্রসংগঠন ও যুবক সমাজ।
বক্তারা শহীদ পবন কুমার তাঁতীর শিক্ষা,মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন-চা জনগোষ্ঠীর সামাজিক মুক্তি ও মর্যাদার সংগ্রামে তিনি ছিলেন আলোর দিশারী।
রাজঘাট ছাত্রসংগঠন ও যুবক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিনিধি বিষ্ণু রাজু। তিনি বলেন-“শহীদ পবন কুমার তাঁতী শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না;তিনি ছিলেন আমাদের জাতিগত আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে চা-বাগানের শ্রমিক সন্তানও দেশ,সমাজ ও জাতির জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর দেখানো পথ আমাদের সাহস দেয়,অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। আজকের তরুণ প্রজন্ম তাঁর আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে গেলে চা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।”
বিষ্ণু রাজু আরও বলেন- “আমরা চাই আগামী প্রজন্ম শহীদ পবন কুমার তাঁতীর জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানুক,তাঁর মতো নির্ভীক,ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক হতে শিখুক। সমাজকে এগিয়ে নিতে তাঁর শিক্ষা বুকে ধারণ করাই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।”
দিনব্যাপী আয়োজনে শহীদ পবন কুমার তাঁতীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ,আলোচনা সভা,কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তাঁর নাম ও কর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ করার দাবি জানান।
স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই মহান মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় নীরবতা পালন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে।
সিলেট নিউজ/এসডি.