নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হবিগঞ্জ রোডস্থ শ্যামলী কাউন্টারের সামনে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে প্রায় ১৩ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু-হুমায়রাকে কান্নারত অবস্থায় স্থানীয়রা দেখতে পান। শিশুটিকে কাঁদতে দেখে দ্রুত ভিড় জমে গেলে সে আরও ভীত হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডেইলি সিলেট নিউজ২৪, বাংলা এফএম,দৈনিক প্রভাকর ও আই নিউজ বিডি-এর প্রতিনিধি সত্যজিৎ দাস,শ্রীমঙ্গলের ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট আমীর আলী,শ্রমিক অধিকার পরিষদের রাফি আহমেদ সহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। তারা হুমায়রাকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান।
হুমায়রা জানায়,” তার বাবার নাম শামীম,বাড়ি চিটাগং,আর আপ্পির নাম শিরিন। আমি বাড়িত যাইতাম”। একটি মোবাইল নম্বর বললেও ভয়-আতঙ্কের কারণে পরে তাও ভুলে যায় ও পথ হারায়।
শিশুটিকে শান্ত করতে স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে। এরপর হুমায়রার বর্ণনা অনুযায়ী আশপাশে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা খোঁজ করেও তার আপ্পি শিরিনের দোকান বা বাসা শনাক্ত করা যায়নি।
এই সময় স্বেচ্ছাসেবীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি পোস্ট করলে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। পোস্টে উল্লেখিত তথ্য দেখে হুমায়রার মামা আমীর আলীকে ম্যানসন্ করা হয় এবং এর সূত্র ধরে শিশুটির পরিবার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পরবর্তীতে হুমায়রার বাবা শামীম পরিবারসহ ঘটনাস্থলে এসে মেয়েকে শনাক্ত করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবীরা হুমায়রাকে তার পিতার কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনাস্থলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট আমীর আলী জানান,ঘটনার পর হুমায়রার বাবা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং শিশু উদ্ধার ও নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সিলেট নিউজ/এসডি.