সিলেট নিউজ ডেস্ক :
নওগাঁর বিলাভবানীপুরের সেই অন্ধকার সেফটি ট্যাংকটি আজ শুধু একটি কংক্রিটের গর্ত নয় বরং আমাদের বর্তমান পচে যাওয়া সমাজের এক বীভৎস প্রতিচ্ছবি।
একটি ফুটফুটে প্রাণের শেষ ঠিকানা কেন আবর্জনার ভাগাড়ে হবে? আজ নদীর স্রোতে, রাস্তার ধারে কিংবা শৌচাগারের অন্ধকারে—সবখানেই কেবল লাশের মিছিল। কেমন দেশে আমরা বসবাস করছি যেখানে মানুষের জীবনের মূল্য একটা খড়কুটোর চেয়েও সস্তা? দেশে হাজারো প্রশাসন আর আইন থাকা সত্ত্বেও যখন ঘরে-বাইরে কোথাও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, তখন বুঝতে হবে আমরা এক পৈশাচিক ও অযোগ্য সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
আজ কারো চেতনা জাগে না, কারো বিবেক নাড়া দেয় না লাশের পর লাশ পড়ছে আর আমরা কেবল নীরব দর্শক হয়ে রয়েছি।
যে শান্ত দেশটা আজ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এই বোনের নিথর দেহ আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। রাস্তায় রক্ত, নদীতে লাশ আর এখন সেফটি ট্যাংকে মানুষের শেষ ঠিকানা—এই বীভৎসতা সহ্য করার ক্ষমতা আর কতটুকু আছে আমাদের? প্রতিটি খুনের বিচার যদি না হয়, তবে এই লাশের মিছিল দিন দিন আরও দীর্ঘ হবে।
আমরা কি সত্যিই কোনো সভ্য সমাজে বাস করছি, নাকি এক অন্ধকারের নরকে যেখানে প্রাণের কোনো নিশ্চয়তা নেই? এই মৃতদেহের চেয়েও আজ আমাদের বিবেক অনেক বেশি মৃত।
নওগাঁয় টয়লেট ট্যাংকি থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, ধ'র্ষ'ণের পর হ*ত্যার অভিযোগ।
নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে একটি বাড়ীর সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া যুবতীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন পুলিশ। নি'হ'ত নারীর নাম মিতু বানু (২৬) মহাদেবপুর উপজেলার শরিফপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ জানায়,মিতুর এখনও পযর্ন্ত তিনটি বিয়ে হয়েছে মিতুর প্রথম বিয়ে হয় নওগাঁর শিকারপুর গ্রামের সাকিব হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী সৌদি আরবে চলে যান।
ওই সংসারে তাদের একটি সাত বছরের সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পরকী*য়ার জেরে ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শরিফপুর গ্রামের শুভ নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতুর দ্বিতীয় বিয়ে হলেও এক বছর পর সেই সংসারও বেশি দিন টিকেনি ভে'ঙে যায়। গত বছর নওগাঁর তিলকপুর গ্রামের রিপন নামের এক যুবকের সাথে বিয়ে হয় মিতুর।
রিপন গত ৪ মাস আগে ঢাকায় চলে যায়। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে মিতু নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস করছিলেন। নি'হ'তের বাবা মিরাজুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছিলো না।
মঙ্গলবার দুপুরে ভবানীপুর গ্রামের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে এক নারীর ম*রদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ম*রদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মিতুর বাবা সিরাজুল ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় একটি হ*ত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিয়ামুল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাড়ীর মালিক মনজের হোসেন নামের একজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই বাকিরা ও ধ'রা পড়বে।