অথই নূরুল আমিন:
আসসালামু আলাইকুম দেশবাসী ও প্রিয় বন্ধুরা, প্রিয় পাঠক, পাঠিকাগণ, আশাকরি সবাই ভালো আছেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, আগামীকাল ১২ তারিখ ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঐ দিনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা বড় পরিবর্তনের দিন বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।
আপনারা অনেকেই জানেন। আমি সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে সবসময় লেখালেখি করে থাকি। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল দেখেছি এবং তাদের ভালো মন্দ কর্মকাণ্ড নিয়েও লিখেছি । সাবেক যুবলীগ
ছাত্রলীগ ওরা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু হাসিনার পতনের পর দেখতে পেলাম। যুবদল ছাত্রদল ওরা যেন আরো বেপরোয়া। এ যেন মুদ্রার এপিঠ - ওপিঠ। ছি ছি.. তাই দেখে শুনে বুঝে ভোট দিন। সুন্দর দেশ গড়ার পক্ষ নিন।
২০০১ - ২০০৬ তারেক রহমান নিজে নারী কেলেঙ্কারি, মাদক ব্যবসা অস্ত্র পাচার, চাদাবাজীসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যে তারেক রহমান করেননি। আর হাওয়া ভবনের কথা তো সবার জানা আছে। তা আর কি লিখব? গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমি যা দেখেছি। বিএনপি, যুবদল আর ছাত্রদল ওদের মধ্যে আপনি একজন ও ভালো লোক পাবেন না। সব চোর সব চাঁদাবাজ ।
প্রিয় দেশবাসী, এক লাখ সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর প্রায় সবাইকে নির্বাচন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোড়দার করার জন্য সরকার দিয়েছে। শুধুমাত্র সন্ত্রাস ঠেকাতে । এত সন্ত্রাসী কোথায় থেকে এলো, প্রতি পাড়ায় মহল্লায় কিশোর গ্যাং কিভাবে জন্ম হয়। এগুলো হয় মূলত পরিবারতন্ত্র আওয়ামী লীগ বিএনপির জন্য। বতর্মানে যত সন্ত্রাসী বাংলাদেশে আছে। ওরা সবাই বিএনপি তে। ওরা কিন্তু জুলাই যুদ্ধা নয়। চেছড়া চোর। বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে বাংলার আকাশের সূর্যটা ডুবিয়ে রেখেছিল, পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির মত রাজনৈতিক দলগুলো । যার ফলে বাঙালির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এই দেশের ধনি শ্রেণির লোক গুলো, প্রায় সবাই পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলার সাথ কারো আত্মীয়তা। আর কেউ কেউ তাদের নেতা বা কর্মী। ওরা গরিব শ্রেণির ৬০% জনগণকে শোষণ করেছে প্রতিনিয়ত । তাই ওরা বিদেশে পাহাড় সমান টাকা পাচার করেছে। বিদেশের বিভিন্ন দেশে বাড়ি করেছে। তাদের ছেলে মেয়েদের কে বিদেশে লেখাপড়া শিখিয়েছে। আর দেশের যুবকদের মেধা ফুটতে দেয়নি। ওরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে। এই দেশের মধ্যবিক্ত ও গরিব শ্রেণির জনগণকে। তা আজকে দিনের আলোর মত পরিস্কার। সবাই স্বচক্ষে দেখছেন।
ওরাই রাজনীতির নামে নব্য ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেজে ইচ্ছে মত, আমাদের দেশের পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গরিব শ্রেণির জনগণের কোনো কদর ছিল না কখনও।
'কথা থাকে যে ভোটের বেলায় ভোট প্রদান
ধনি গরিব জেলে তাতী নারী সবাই সমান
কিন্তু কাজের বেলায় টনটন আর অসম্মান "
প্রিয় দেশবাসী, আওয়ামী লীগ বিএনপি এ জাতীয় পার্টির মত রাজনৈতিক দলগুলো এই সবচেয়ে বেশি ধরে ক্ষমতায় ছিল, লক্ষ্য করলে দেখবেন। দেশের সকল নাগরিক আমরা কিন্তু বিভিন্নভাবে প্রায় সবাই ভূক্তভোগী। দেখুন শিক্ষার মান নষ্ট করা হয়েছে, স্বাস্থ্য সেবায় যেন কসাই খানা। এবং প্রতি মাসে দেখবেন, তেলের দাম বেড়েছে এই মাসে। পরের মাসে চালের দাম এর পরের মাসে অন্যটা। এভাবেই চলেছে চুয়ান্ন বছর। যার ফলে গরিবেরা গরিব রয়েছে। আর মধ্যবিক্ত পরিবারের জন্য যেন গলার কাটা।
এরপর দেখবেন ওদের মধ্যে যারা এমপি মন্ত্রী হয়েছে তারা সবাই পয়সাওয়ালা। একদম ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। অন্য দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন, সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান লোকসানী। কথা থাকে যে সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান লোকসানী হলে সরকারে থেকে এমপি মন্ত্রীরা টাকার মালিক হলো কি করে? উত্তর একদম সহজ সিন্ডিকেট করে। জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে বিদেশী ঋণ করে। অতএব ওরা কখনও জাতির স্বপ্ন পূরণ নিয়ে ভাবেনি। দেশের সুবিধাবঞ্চিত ৬০% জনগণের কথা ভাবেনি।
কথা থাকে যে, এগারো দলীয় জোট কি জনগণের জন্য ভাববে? হ্যাঁ ভাববে এটা আমার বিশ্বাস। তার প্রধান কারণ হলো, আজকে এগারো দলে যারা আছেন । তারা সবাই ভূক্তভোগী । তাই তারা জনগণের কদর করবে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাসই। এর পরেও যদি ভালো কিছু না হয় এই জাতির জন্য তাহলে বুঝতে এবং ভাবতে আমাদের নিজেদের কিছু করার জন্য।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান সমন্বয়ক জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
১১. ফেব্রুয়ারি ২০২৬