সিলেট নিউজ ডেস্ক :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের এক মালিক চাঁদা না দেওয়ায় তার দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন দোকানমালিক।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় চাঁদাবাজি ও হামলার নেতৃত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের কুয়াকাটা পৌর শাখার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাকসুদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ‘তানিসা আচার ঘর’র মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে কুয়াকাটার হুইসেনপাড়া এলাকার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ আরও পাঁচ-ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী মনিরুল হাওলাদার বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে মারধর করা হয়।“
তিনি জানান, একপর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান।
অভিযুক্ত মাকসুদ আকনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক। তবে দলে তাদের কোনো পদ-পদবি নেই। ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারপরও কারও দোকানে হামলা-ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব। এ ছাড়া দলের নেতাদের জানানো হবে। কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
মহিপুর থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরপরই পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগেরভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পটুয়াখালী জেলা কুয়াকাটা পৌর শাখার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাকসুদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন জেলা শাখার সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন।”