সিলেট নিউজ ডেস্ক :
একটি জুলাই বিপ্লব। বাংলাদেশের জন্য একটি মহা পরিবর্তন। পরিবর্তন হয়ে গেলো দেশের অসংখ্য সোসাইটি। নষ্ট হয়ে গেলো অসংখ্য পরিবেশ। রাজনৈতিক অঙ্গনে এলো সুন্দর ও সমঝোতার আভাস। পরিবর্তন হতে যাচ্ছে সংবিধানের অনেক ধারা - উপধারা। ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের যেন আজকে মুক্ত জীবন, প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ। ছাত্র শিবিরের হাতে আজকে ছাত্র রাজনীতির বড় একটা অংশ। দেশের সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেলেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মর্যাদা সম্পন্ন সম্মান। এরই মধ্যে হয়ে গেলো মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচন। বিএনপি ক্ষমতায় এলো দেশের জনগণের অনেক বড় সমর্থন নিয়ে। এদিকে নোবেলজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস ( অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ) আজকে দেশের ভিভিআইপি পদে ঘোষণা। অন্য দিকে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার,ক্ষমতা লোভী, মানুষ খুনী আখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে ফাঁসির রায় হলো। আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থগিত করা হলো।
সময় চলে তার নিজস্ব গতিতে। প্রকৃতির গভীর খেলায় কেউ হাসে কেউ কাঁদে। জুলাই ছাত্র জনতার সরকার বিরোধী আন্দোলনে অনেকেই নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন। অন্য দিকে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীদের জেল জরিমানা অনেকেই দেশ ছাড়া আবার অনেকেই পলাতক। অন্য দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎফুল্ল ভাব। তারা যেন স্বাধীন। একসময় যাদেরকে রাজাকার বলা হতো, জঙ্গি বলা হতো। অনেকেই গ্রেফতার হতো । তখনকার সময়ে তাদের প্রতিটা দিন যেত আতঙ্কে।
অন্য দিকে আওয়ামী লীগের গৃহ পালিত জাতীয় পার্টি এবং তাদের জোটে যারা ছিলো আজকে তারা সবাই রাজনীতি অঙ্গনে দেশের জনগণের কাছে অবহেলিত। তবে কথা থাকে যে, আওয়ামী লীগের আমলে প্রায় ষোল বছর হাজার চেষ্টা করেও বিএনপির জনপ্রিয়তা এক চুল পরিমাণ কমাতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। হাজার হাজার মামলা মকদ্দমা করেও দমাতে পারেনি বিএনপির কার্যক্রম। এর বড় কারণ হলো আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কিছু করেনি। শেখ হাসিনার উন্নয়ন উন্নয়ন শ্লোগান যেন গোটা জাতির কাছে গালি সমান মনে হতো। এককথায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে পছন্দ করত না দেশের বড় একটা অংশ। তার প্রধান কারণ ছিল জনগণের প্রতি তার কোনরকম আন্তরিকতা ছিল না। জনগণের সাথে তিনি টিটকারী এবং অবহেলা জনিত আচরণ করতেন সবসময়।
অন্য দিকে দেশের সকল ধারার রাজনীতি দলগুলো শেখ হাসিনার বিরোধী ছিলেন তারা। তার কারণ ছিল। ঐ সকল রাজনীতি দলের নেতাকর্মীদেরকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন।
অন্য দিকে বিশেষ করে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ বিন্দুমাত্র সম্মান না করা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দেয়া। এসব বিষয় গুলো দেশের সিংহভাগ জনগণ আওয়ামী বিরোধী হয়ে পরে একটা সময়। যা ছিলো দলমত নির্বিশেষে। অন্য যুদ্ধাপরাধের বিচার শাপলা চত্বর গণ হত্যা, বিডিআর হত্যা, দেশের বড় বড় আলেম ওয়ালামাগণকে জেলে নেয়া এই সকল বিষয় গুলো জনগণ মেনে নিতে পারেননি। আওয়ামী লীগের কিছু চেলা চামচা ছাড়া দেশের সবাই শেখ হাসিনা বিরোধী হয়ে পরেছিল। জুলাই আন্দোলনের সময়।
আজকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকার দল বিরোধী দল। এককথায় সবাই আওয়ামী লীগ রাজনীতির বিরোধী। এখানে কথা থাকে যে, ২০২৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। সেই দিন ক্ষমতায় আসার পিছনে দেশের সাড়ে কোটি জনগণের ভালোবাসা সমর্থন ও শ্রম ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতি, লোভীও প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতির কারণে বিশেষ করে তাদের দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে পর্যন্ত শেখ পরিবারসহ দেশের মন্ত্রী এমপিরা অসংখ্য খারাপ আচরণ করেছে। তাহলে আওয়ামী লীগ নীতি ভ্রষ্ট একটি দল। এরকম একটি লুঠেরা দল ভবিষ্যতে ও এই দেশে প্রয়োজন নেই বলে মনে করি।
কিন্তু ভয়। ভয় কাটেনি আমার এখনো। প্রশ্ন জাগে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নীরব ভূমিকা। ভয় লাগে এনসিপির ছেলে মেয়েরা যখন রাষ্ট্রের একজন প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নাম ধরে অকথ্য ভাষা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। আরো প্রশ্ন জাগে ড. মোহাম্মদ ইউনূস তিনি কেন এক বছরের জন্য ভিভিআইপি নিরাপত্তা আওতায় আছেন। এই মেয়াদ কি এক বছর পর আরো বর্ধিত করা হবে নাকি এক বছরের ভিতরেই বিএনপির ক্ষমতা চলে যাবে? এখানে কি চলছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি খেলাই চলছে বাংলাদেশে। কে কখন হাসে আর কে কখন কাঁদে এখন অগ্রিম আর কোনো কথাই বলা যাচ্ছে না। সবশেষে বলি ভালো থাকুক দেশ ভালো থাকুক দেশের জনগণ।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
৪. মার্চ ২০২৬