সিলেট নিউজ ডেস্ক :
জামায়াত নেতা আরও বলেন, শুরু থেকেই আমরা দেখেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন ব্যক্তি—যিনি আমাদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন—তিনি প্রথম দিনেই খলিলুর রহমান সাহেবকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করান। অথচ এটি ছিল তার আগের অবস্থান ও শপথের পরিপন্থী একটি কাজ।
এখানে বিষয়টি স্পষ্ট যে, খলিলুর রহমান লন্ডন ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। সেখান থেকে তিনি সরকারকে প্রভাবিত করে একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। তার সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা নিয়েও আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ প্রশ্ন হচ্ছে—বিএনপির কি এতটাই লোকসংকট যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মন্ত্রী করতে হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ নিজেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তাকে সরকার থেকে অপসারণের দাবি তুলেছিলেন।
তাহলে যে ব্যক্তি তখন বিএনপির দৃষ্টিতে বিতর্কিত বা অগ্রহণযোগ্য ছিলেন, তিনি কীভাবে পরে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে মন্ত্রী হলেন? এতে মনে হয়, সালাউদ্দিন আহমেদের সেই বক্তব্যের পর খলিলুর রহমান গোপনে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সমঝোতায় গিয়েছিলেন।
সম্ভবত এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে সহায়তা করবেন এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে মন্ত্রী করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান থেকে এই বিষয়গুলো অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। সুতরাং, খলিলুর রহমান সাহেবকেও এই সরকারের উচিত যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা। কারণ জানতে হবে—কী ধরনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এই জাতির দীর্ঘদিনের দাবি এবং মানুষের মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু এই সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সড়ে এসে নানাভাবে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এটা সরকারের স্পষ্ট ব্যর্থতা।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সংবিধানের আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে ভেবে দেখবে জামায়াত। তবে সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।