সিলেট নিউজ ডেস্ক :
"এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট। একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিবে আমি মাথা পেতে নিব। কিন্তু আমার এই পোস্টে আমি কিছু তথ্য রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে, অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে ফাসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারে।
১. আমার বাসায় ড্রইং কাম ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই আমার কাছে ছিল না। ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মুহূর্তে তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিল না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাদেরকে বলব সিসিটিভির সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি অনায়াসে বেরিয়ে আসবে। ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও সহকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করত। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় আলামত। আমি নেপাল আসার দিন থেকে এতে গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ রয়েছে। আবারো বলছি ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক্যামেরার মেমরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে।
২. কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আমি নেপালের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ—এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর আগমন ছিল। ২৫/২৬ তারিখ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল। এসময়গুলোতে তারা নি*শা ও ম*দ্যপান করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে ধুমপা*ন ও ঘু*মের ঔষধও আনিয়েছে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়।
৩. ইকরার মোবাইল পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট চলে আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে। আমার সাথে ইকরার কনভার্সেশনের একটি দাড়ি কমাও পরিবর্তিত হয়নি সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ মিলবে। আমি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে তা দিব। সবার কাছে অনুরোধ যেন ইকরার ফোন থেকে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা কল লিস্টের কোনো তথ্য মুছে না যায়।
৪. পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা। আগের রাতে কোনো কিছুর সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি রিপোর্টে আসবে। কোনোভাবেই যেন এই রিপোর্ট পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
না চাইতেও নিচে কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য রেখে যাচ্ছি যা বলা আমার জন্য কষ্টের। আফটারঅল ইকরা আমার স্ত্রী।
* আপনাদের মতে আমার সাথে অন্যের সম্পর্ক থাকলে, ইকরার পরিচিত নাবিদ-এর সাথে ইকরার সম্পর্কের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।
* ২০১০ এ পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর, ইকরা আমার বিবাহিত স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তার পরিবার তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। ডিভোর্স না দিয়েই সে আরেকটি সংসার শুরু করেছিল। তবে ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা ফিরে আসে, আমি তাকে ক্ষমা করে মেনে নিই। একজন স্বামী হিসেবে এই পরিস্থিতি বয়ে বেড়ানো সুখের ছিল না।
উপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে ইকরা আমাকে ভালোবাসত না। সে আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসত। আমিও বাসতাম। ত্যাগ ও যুদ্ধ দুজনেরই ছিল। ভুল ত্রুটি, ঝগড়া আর সব সংসারের মতোই আমাদেরও ছিল। কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালোবাসা মায়ায় রূপ নেয়।
উপরের মহলের চাপ ও নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়তো আমাকে বাঁচতে দিবে না। ১ জন মানুষও যদি বিবেচনার দুয়ার খুলে এই লেখাগুলো পড়েন, প্লিজ তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে দিয়েন না। আমার সন্তানের জন্য হলেও। কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পূরণ করতে পারবে না। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে দিয়েন।"
---
[সংগৃহীত ও জনস্বার্থে প্রচারিত]
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের বক্তব্যটি অভিনেতা জহির আলভির ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত। এর সত্যতা বা আইনি প্রমাণের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের। সামাজিক ও তথ্যগত স্বচ্ছতার খাতিরে এটি শেয়ার করা দরকার