অথই নূরুল আমিন:
বতর্মান সরকারসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের বেশকিছু লোক দেখানো কাজ বা কর্মসূচি থাকে। কিছু সস্তা বুদ্ধিজীবীদের কাজ এগুলো। যেমন বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা দশ কেজি বিতরণ কর্মসূচি টিসিবির পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি। বতর্মান সরকার এসেই ফ্যামেলী কার্ডের উদ্বোধন, কৃষক কার্ড দেবার উদ্যোগ, আজকে হয়ে গেলো ঈমাম খতিবদের ভাতা প্রদান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এখানে কথা থাকে যে, ধর্মীয় আচার আচরণ অনুষ্ঠানে সেটা যে কোনো ধর্ম হোক সরকার টাকা দিতে যাবে কেন? ধর্ম যার যার ইবাদত যার যার। এখানে এসব বহন করবেন সেখানের সমাজ বা পঞ্চায়েত কমিটি। সরকারের টাকা মানেই জনগণের ভ্যাট ট্যাক্স এর টাকা। এখানে সেই জনগণের টাকা সরকার ধর্মীয় কাজে ব্যয় করবে। এটা কতটুকু যুক্তি আছে? আমি মনে করি সরকারের এই ধরনের কাজ বা কর্মসূচি গুলো সস্তা জনপ্রিয়তার একটি অংশ মাত্র।
এগুলো আসলে প্রকৃতপক্ষে একটি সরকারের কাজ হতে পারে না। এই ধরনের লোক দেখানো কাজ করবে কোন এনজিও, মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান গুলো। এছাড়া দেশের শিল্পপতি বা তাদের গড়া কোন ফাউন্ডেশন। তথা এলাকা ভিত্তিক সামাজিক সোসাইটির কাজ এগুলো। আর এরকম ছোট খাটো কাজ বা কর্মসূচি বানিয়ে সরকার যদি তার মূল্যবান সময় নষ্ট করে তাহলে দেশের জন্য সরকার কাজ করবে কবে?
বিএনপি আজকে প্রায় দেড় যুগ পর অসংখ্য আসন পেয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। যার ফলে তাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক। আর সেই দায়িত্ব পালন না করে কাদেরকে ফ্যামেলী কার্ড দিবে, কৃষক কার্ড দিবে, ইমাম খতিব ভাতা দিবে। এখানে প্রতিদিন সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত হয়ে যাবেন। বদনাম ছড়িয়ে পরবে সমগ্র দেশ জুড়ে। এই খবর গুলো কিন্তু আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে না। এই ধরনের সস্তা বুদ্ধিজীবীদের জন্য এর আগেও অনেক সরকারের বদনাম হয়েছে কঠিন ভাবে।
একটি সরকার তখনই বিতর্কিত হয় যখন যোগ্য কাজ করতে ব্যর্থ হয়। আমি মনে করি একটি সরকার সবসময় কাজ করবে সকল জনগণের জন্য। সরকারের প্রতিটা প্রকল্প দেখে যেন সকল শ্রেণি পেশার লোকজন এমনকি ভিন্ন মতের জনগণও যেন বলে " ঠিক আছে, সরকারের এই কাজটি ঠিক আছে। বয়স্ক ভাতা কার্ড, বিধবা ভাতা কার্ড, ফ্যামেলি কার্ড বা কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে যদি একটু বলি, তা হলো মনে করুন বয়স্ক ভাতা কার্ড পাওয়ার লোক আছে এক লাখ। সরকার এখানে কার্ড দিবে দশ হাজার,তার মধ্যে প্রকৃত ভাতা প্রাপ্ত যারা তাদের মধ্যে পাবে তিন হাজার। বাকি সব থাকবে ভেজাল। ফ্যামেলী কার্ড নিয়ে কয়েক দিন পরই নিউজ হবে কোটি পতিরাও ২৫০০ টাকা পাচ্ছে। তখনই সরকারের বদনাম ছড়িয়ে পরে। তখনই জনগণের বিশ্বাস উঠে যায় একটি সরকারের উপর থেকে।
আসলে একটি সরকার কেন যে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য কোনো কাজ করতে পারে না তা আমার বোধগম্য নয়। একটি সরকার কেন দেশের সর্বস্তরের জনগণের মন জয় করতে পারে না। একজন প্রধানমন্ত্রী যতদিন ক্ষমতায় থাকে ততদিন জনগণ কত দাম দেয়। কত কদর করতে থাকে। অথচ সরকারের শেষ সময়ে যখন জনগণ হিসাব মিলায় তখন দেখে সব জিরো। যেই লাউ সেই কদু।
আমাদের দেশের সরকার গুলোর আরেকটা আলুর দোষ হলো তারা জনগণের কোনো চাওয়া পাওয়া পূরণ করে না। সরকারের যা মন চায় তাই করে। আমি মনে করি, ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড দশ কেজি চাল প্রকল্প টিসিবির পণ্যসহ এরকম প্রকল্প গুলোর বতর্মানে কোনো প্রয়োজন নেই। একান্তই যারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য। তাদের বেলায় সরকার পূনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিতে পারে। কৃষিখাতে কৃষক কার্ড না দিয়ে সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিনা লাভে লোন দিতে পারে। ফ্যামেলি কার্ডের ভাতা পাওয়ার যোগ্য পরিবারগুলো থেকে কমপক্ষে একজন নারী বা পুরুষ অথবা পুত্র বা কন্যার একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।
হাস্যকর বা বিতর্কিত প্রকল্প গুলো সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া মানেই সরকারের কদর কমে যাওয়া বিভিন্নভাবে।( পর্ব এক )
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখকও রাষ্ট্রচিন্তক