অথই নূরুল আমিন:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গণভবনের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১৩০ জন, জনবল নিয়ে গণভবন থেকে বর্তমানে প্রায়সব ধরনের কাজ লেজেগোবরে পরিচালনা করছেন। যা হাস্যকর।
বর্তমানে বিভিন্ন জনবিরোধী কর্মকান্ডের একক নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন আপনি। আপনাকে তিরস্কার না করে পারছি না। গত ১১ বছরে দেশের অন্নহীন, বস্ত্রহীন, স্থানহীন, পুষ্টিহীন প্রায় তিন কোটি মানুষের জন্য কিছুই করেননি কেন আপনি ? ওরা শিক্ষাহীন মেধাহীন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত এক জনগুষ্টি ।
অতিব চালাক রাষ্ট্র নায়ক? এদের জন্য শুধু আপনি নন। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে কেউ কিছু করেনি। তাই এই গণভবনটাকে আমার কাছে অভিশপ্ত মনে হয় বারবার ।
এই গণভবনের বাহিরে যখন যারা থাকে এবং
বিরোধী দলের হয়ে নেতৃত্ব দেয়। তখন তারা সকল অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা জনগণের জন্য হরতাল ডেকেছে। পল্টনের জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছে। তাদের অধিকার চাই বলে সেদিন জনসভায় পাগলা কুকুরের মত চিৎকার করেছে। সাথে আরো হাজারো জনসমর্থনসহ। আর এই গণভবনে গিয়ে সবাই ভুলে গিয়েছে অতীত। ভুলে গেছেন আপনি ও।
গণভবনে দামি লোকের আসা-যাওয়ার ভারে আপনিও ভুলে গেছেন চির দুঃখী মানুষের কথা। গণভবনে বসবাস করার ফলে, শিল্পপতিদের সাথে চলাফেরা করার ফলে, সবাই ভুলে গিয়েছিল চির দরিদ্র মানুষের ঘামে ভরা, ধুলায় ভরা মলীন মুখগুলো। আপনিও ভুলে গেছেন। তা না হলে ১৯৮৭ সাল থেকে যাদের মুখে হাসি ফোটানো ছিল আপনার সংগ্রামের প্রথম শর্ত। আজ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় আছেন। তাদের জন্য আপনি কিছুই করেন নি কেন? আপনার লোক দেখানো ভাষণ আমি সমর্থন করি না।
আমি শতভাগ ত্যাজী পুরুষ, আপনার সামনে মাথা নত করে আপনার জনবিরোধী কোনো কাজ হ্যাঁ সমর্থন করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিতে আমি চাই না।
আমি চাই ২০২১ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের পূর্বে চির অবহেলীত চির দরিদ্র চিরদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি তে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, অবিরাম জীবন সংগ্রাম করছেন তাদের একটু বাসস্থান,তার যুবক ছেলেটার একটা ছোট্ট চাকরি, তার যুবতী মেয়েটার একটু সাজ-গোজ বিয়ে আশাকরি সেই ব্যবস্থা ।
এই তিন কোটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি যতদিন না ফুটবে আপনার মাধ্যমে, আমি আপনাকে ততদিন যোগ্য প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবোনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
কালকে হয়তো আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। নতুবা সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে, বতর্মানে দেশের যে হাল।
এমনকি হায়াত ফুরালে মানুষ এমনিতে ও মারা যায়। আমি আপনার অবগতির জন্য বলতে চাই গত ১১ বছরে আপনি যত মায়াকান্না দেখিয়েছেন এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। মনে হয় বিদেশি কোনো দামি ছবির আপনি মহিলা কোন ভিলেন। আর একটি কথা বলতে চাই গত 1১ বছরে মানুষের মন খুশি করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করার মত কিছুই করতে পারেননি।
যা আপনি মারা গেলে আপনাকে স্মরণ রাখবে মানুষ, এমন কিছুই করতে পারেননি আপনি। আপনি যা করেছেন এক বস্তা চোরের পেট ভরিয়েছেন।
এই অভিশপ্ত গণভবনটি এক ভয়ংকর অভিশপ্ত। এই গণভবন থেকে বের হওয়ার পর তাকে জেলে যেতে হয়। শুধু অভিশপ্ত নয় নাটকীয় অভিশপ্ত। এখানে থাকলে আর জেলের কথা মনে থাকেনা। এত লম্বা লেখা লিখে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না।
শুধু এতোটুকু বলতে চাই যারা আজকে ফেসবুকে তাদের জয় লীগ আইডিতে প্রতি মিনিটে আপনার ছবি পোস্ট করে আপনার জয়জয়কার করছে ওরা সবাই দলীয় কর্মী নয়। অনেকেই আছে নকল আমি বলি বানর খেলা ঘরের দর্শক।
আপনার পরিস্থিতির মন্দ হলে ওরা প্রথম এই ছবিগুলো ডিলেট করবে। ওখানে অ্যাড করবে আবার অন্য কোন স্বার্থ হাসিল কারীর ছবি। কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করে দেখা যাচ্ছে আপনার ভেতরে অহংকার কাজ করছে চরম । পদ্মা সেতু-মেট্রো রেল আটলেন রাস্তার নকশা দেখে। আমি বলব এগুলো আপনার পৈত্রিক সম্পদ নয়। এগুলো এদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়া সম্পদ।
এটা ভুলে গিয়ে আর ভুল পথে হাঁটবেন না। আপনি একজন অশিক্ষিত মহিলা ও বটে। কারণ টকশোতে সাংবাদিক সম্মেলনে যদি কেউ কেউ বা কোনো গোষ্ঠী আপনার ভুল কথাটি উচ্চারণ করে তখন দেখেছি আপনি রাগান্বিত হয়ে উত্তর দেন। এই রাগান্বিত বিষয়টাও এক ধরনের মূর্খতার পরিচয় বহন করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বইয়ের লেখক হিসেবে আমার লেখায় অনেকেই শুধু ভুল খুঁজে, অনেকেই পজেটিভ খুজে, অনেকেই কমেন্ট করে, অনেকেই করে না তবে উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানাই। এই জন্য যে আমি তো মানুষ ভুল তো আমার হতেই পারে। লেখাটির শিরোনাম গণভবনের চার দেয়ালের বাহিরে তিন কোটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।
আমি আজকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে গিয়ে যে শ্রেণির তিন কোটি মানুষের কথা উল্লেখ করব তারা কেউ ফেসবুক চালায় না। তাই এখানে আমার বাহ বাহ পাবার সুযোখ খুব কম। যে বিধবা মহিলা তার দুটি বাচ্চা পাশে বসিয়ে রেখে ২৫ স্কয়ার ফিট ইট ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। যে লোক গুলো প্রতিনিয়ত সারাদিন রিক্সা ভ্যান ঠেলা চালাচ্ছে, অল্প কিছু আয় করে পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বাজারের সবচেয়ে কম দামি হাফ কেজি ওজনের একটি পাঙ্গাস মাছ যেদিন কেনার মতো আয় হয় সেই দিন সেই খেটে খাওয়া মানুষটার মুখে সূর্যের ঝিলিকের মতো হাসি ফুটে ওঠে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সময়ে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখেছি যেমন সদরঘাট, কমলাপুর স্টেশন, খুলনা বন্দর, চিটাগং বন্দর, নারায়ণগঞ্জ বন্দরসহ বিভিন্ন জায়গায় যারা সারাজীবন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে সংসার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের ৬০ লাখ পরিবারের ছোট-বড় প্রায় ৩ কোটি মানুষ।
ক্সটট
এই তিন কোটি মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করতে তাদের সন্তানগুলোকে অল্প পশিক্ষিত করতে সারাদেশে ১৫ হাজার জোন করে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আবাসনের বা পূনর্বাসনের পব্যপবস্থা করে দিলে। আমারকষ কাছে মনে হবে প তাদের ভাষা বুঝতে পেরেছেন। আমার কাছে মনে হবে গণভবনে থেকেও আপনি তাদের কথা মনে রেখেছেন।
চলবে...
লেখক : প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক।
সূত্র : গুগল। আমার যুদ্ধ কলমে বই থেকে সংগৃহিত।