অথই নূরুল আমিন:
পবিত্র রমজান ও এর তাৎপর্য ; পবিত্র রমজান প্রায় শেষের দিকে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এখানে প্রায় ৯৫% মানুষ ইসলাম ধর্মের কয়েকটি তরিকা বিশ্বাস করেন ও ধারণ করেন । এ কারণে রমজান মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার প্রতীক চিহ্নিত ।
ধর্ম কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়, এটি একটি জাতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সার্বিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটাতে সাহায্য করে থাকে । ধর্মীয় বিধিবিধান আসলে আইন ও নৈতিকতার সমষ্টি, যেখানে মানবতার কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবতার মূল ভিত্তি কী? একজন মানুষের জন্য আরেকজন মানুষের সহযোগিতা। এছাড়া পৃথিবীর যা কিছু আছে স্থলে বা জলে তাহা মানুষের অশুভ হাত থেকে নিরাপদ থাকা।
কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় ধর্ম যেন হতাশার কাফন পরে বসে আছে। ধর্মের বাণী যেন নিরবে কাঁদছে।তবে একজন শুদ্ধ রাষ্ট্র নায়ক ইচ্ছা করলে একটি দেশের অসামাজিক অবস্থা সুস্থ করতে পারেন। যেমন মালেশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদ দেশটাকে সুন্দর করেছেন।
আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে নিম্নে কিছু পদক্ষেপ তুলে ধরছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একমাস বয়স হলো রাষ্ট্র
ক্ষমতায় তিনি আছেন। এরই মধ্যে ফ্যামেলী কার্ড, উদ্বোধন, খাল খনন উদ্বোধন, দেশজুড়ে ঈদ উপহার দেয়া। ইমাম মুয়াজ্জিন ভাতা পদ্ধতি উদ্বোধন সহ বেশ কিছু কর্মযজ্ঞ এরই মধ্যে হয়েছে। প্রকৃতির ঝড় তুফানের মত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ, সিটি প্রশাসক, জেলা প্রশাসক নিয়োগ। ব্যাংক পাড়া আদালত পাড়া কোথাও বাকী আছে বলে আমার জানা নেই। তবে এসব অনেক ক্ষেত্রে ভালো ও হতে পারে তবে বেশিরভাগ সময় হীতে বিপরীতই হয় বেশি।
যাক সে কথা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের লেখাটি হলো ;
সমাজের কিছু অসঙ্গতি ও চাঁদাবাজির ভয়াবহতা :
এই মর্মে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে , বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে কিছু গুরুতর অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো চাঁদাবাজি।
✅ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত চাঁদাবাজির হার প্রায় ৬০%।
✅ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশও চাঁদাবাজির সাদে জড়িত, যা প্রায় ৩০%।
✅ অবশিষ্ট ১০% চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ মাফিয়া চক্র। বিশেষ করে যারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাহিরেই বেশি থেকে যায়।
লক্ষ্য করে দেখা গেছে,পবিত্র রমজান মাসেও এসব চাঁদাবাজির ঘটনা থেমে নেই। রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশের অন্ধ সমর্থন এবং মাফিয়াদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি বিষয় চাঁদাবাজিকে সমাজে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
বিভিন্ন অপরাধের বিস্তারিত : চাঁদাবাজির পাশাপাশি আরও যেসব অপরাধ সমাজকে কলুষিত করছে—চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি, প্রতারণা ও জমি বা বাড়ি দখল।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী-খাল দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এগুলো শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করলেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ।
বেকারত্ব ও অপরাধ প্রবণতা: আমাদের দেশের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো বেকারত্ব। অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের কারণে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
বেকারত্ব থেকে মুক্তি না পেলে অনেকেই আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। যখন একজন ব্যক্তি জীবিকার উপযুক্ত সুযোগ পায় না, তখন তার জীবনের প্রতি অনীহা জন্ম নেয়। ফলে সহজেই সে ভুল পথে পা বাড়ায়।
সমাধানের পথ কী?
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকারের উচিত বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্ম সংস্থান মূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা বহন করা। কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিস্তার ঘটানো। যেমন—
নদী-খাল উদ্ধার করা প্রয়োজন, যানজট নিরসন করা প্রয়োজন, ভাঙা রাস্তা মেরামত করা প্রয়োজন,
আইনশৃঙ্খলা উন্নত করতে মামলা জট কমানো প্রয়োজন কঠিন ভাবে । ঠিক তেমনই বেকারত্ব দূর করা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও সমানভাবে জরুরি প্রয়োজন ।
পরিশেষে ঈদ শুভেচ্ছা:
আমরা চাই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। এজন্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেক নাগরিককেও দায়িত্ব নিতে হবে। একা সরকারের পক্ষে শুধু সবকিছু করা সম্ভব নয়। পরিশেষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সকলকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!
✍️ অথই নূরুল আমিন
(কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী)
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক।