অথই নূরুল আমিন:
দেশ স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর উদযাপন করতে যাচ্ছি। সেদিনের সাড়ে সাত কোটি জনগণ থেকে আজকে আমরা ছোট বড় বিশ কোটি জনগণ হয়েছি। কিন্তু আমরা কেউ ভালো নেই। না ধনীরা না গরিবেরা। এরকম একটি সমাজে আজকে আমরা বসবাস করছি। যেখানে কেউ নিরাপদ নই।
আমি মনে করি একটি থানার একজন অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) ইচ্ছে করলে একটি এলাকা সুন্দর করতে পারে। কিন্তু কিভাবে সেই ওসি যদি দশ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নিজেই ওসি হয়ে আসে। এরপরও যদি এসপি ডিআইজি পুলিশ কমিশনার পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ দৈনিক দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিবার একটি মৌখিক চুক্তি থাকে। তাহলে সেই ওসি থানায় এসে প্রথমেই মাদক কারবারি চোরা কারবারি ডাকাত ও ছিনতাইকারী গ্রুপ খোঁজে বের করবে। গ্রেফতার করবার জন্য নয়। মাসোয়ারা নেবার জন্য।
এদিকে রাজনৈতিক দলের একজন উপজেলা সভাপতি ইচ্ছে করলে সমাজের অসুন্দর যত কাজকর্ম আছে। এবং সঠিক বিচার আচার পরিচালনা করতে পারে। তা তিনি করতে পারেন না। তার কারণ তার কমিটির সিংহভাগ নেতাকর্মীরা অসংখ্য অসৎ কাজে জড়িত। তিনি একা সব ভালো কিছু করার উদ্যোগ নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
এদিকে সরকারি বিধিমালা মত সরকার নিজেও অনেক কিছু করতে পারেন না। তার কারণ প্রতিটা সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা তাদেরকে আগেই অসংখ্য অর্থ দিয়ে রেখেছে। এবং কথা আছে ক্ষমতায় আসলে বিবিধ কাজ কাম তাদের কথামতো করতে হবে। অবশেষে যেই কথা সেই কাজ।
অন্য দিকে বিচারব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, জনগণের স্বাস্থ্য সেবা সব আজকে দুর্নীতিতে ভরে গেছে। এমনকি গ্রামে গঞ্জে গ্রামীণ শালিশী ও চলে ঘুষের মাধ্যমে। দেশের ব্যবসায়ীরা তাদের মত করে খেটে খাওয়া জনগণকে শোষণ করেই চলেছে। যা দেখার কেউ নেই। এককথায় চুয়ান্ন বছরে এই জাতির বিন্দু পরিমাণ স্বপ্ন পূরণ হয়নি। দেশের আশিভাগ জনগণ স্বাধীনতার কোনো স্বাদ পায়নি। সমগ্র জাতির স্বপ্ন যেন আজকে মরুভূমিতে পরিণত হয়ে আছে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানব সম্পদ উইং।