অথই নূরুল আমিন:
১৯৯০ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষক এরকম বিষয় নিয়ে দল দুটি চরম ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে গেলো। কেউ কাউকে ছেড়ে আর কথা বলে না। দেশের জনগণ দেখল দল দুটির মধ্যে যেন চরম শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে। এক দলের কর্মী সমর্থকদের কে আরেক দলের কর্মী সমর্থকেরা কোনভাবেই সহ্য করতে পারে না। এ যেন সাপে আর বেজির আজীবন শত্রুতার মতই ঘটনা।
সত্যি কথা বলতে গেলে দুটি দলের বড় ছোট নেতারা একদলের গীবত আরেক দল অবিরাম গেয়েই যাচ্ছে। দেশের সাধারণ জনগণ তো একদম বিরক্তবোধ করতে লাগল। আর এদিকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুইও দলের বলির পাঠা হলো জামায়াত। দুইও দল জামায়াতকে ঘৃণা করে। জামায়াতকে গালাগালি করা হয়। যেমন কখনও বলা হয় স্বাধীনতা বিরোধী। কখনও রাজাকার। রগ কাটা শিবির ইত্যাদি ইত্যাদি।
অথচ আমরা সবাই একই সমাজের একই দেশের নাগরিক। যে ঘরের বড় ভাই জামায়াত সমর্থন করে সেই ঘরের ছোট ভাই বিএনপির বড় পদে। একই ঘরের কর্তা তিনি আজীবন আওয়ামী লীগ করে গেছেন। অথচ আওয়ামী লীগ বিএনপির যে দন্দ চলছে তা যেন একবারে মারমুখী ধরমার কাট অবস্থা। একদল অন্য দলের কোনো বিষয় কেউ মেনে নিতে পারে না। আওয়ামী লীগের কাছে শেখ মুজিব বড় জিয়াউর রহমান কেউ না। আর বিএনপির কাছে জিয়াই বড়। শেখ মুজিব কিছুই না। বিশেষ করে বিগত ৩৫ বছর ধরে এই আওয়ামী লীগ বিএনপি ৭১ এর চেতনাকে যার যার মত ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নকে হত্যা করেছে। তারা তাদের মত করে ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে সমগ্র জাতির বড় একটা অংশ আজকে সুবিধাবঞ্চিত।
সাধারণ জনগণের মাঝে এই দুটি রাজনৈতিক দল যেন বিষের কাটার মত হয়ে আছে। তাই সেদিন ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটেছিল। দেশের সিংহভাগ জনগণ মাইনাস টু ফর্মুলার নাম শুনে আনন্দে মেতে উঠেছিল। কিন্তু বিধিবাম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। যার ফলে জনগণের আর কিছু করার ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ষোল বছরের বেশি একটানা ক্ষমতায় থেকেও জনগণের জন্য তারা তেমন কিছু করতে সময় পায়নি। তারা ব্যস্ত ছিল শেখ মুজিবকে কিভাবে বড় করা যায়। তাই ছিলো তাদের একমাত্র স্বপ্ন।
জনগণ খোঁজে বের করেছে। আওয়ামী লীগ বিএনপি দুটি দলই পরিবারতন্ত্র তথাকথিত রাজনৈতিক দল। যদি এমনটিই জনগণ না ভাববে তাহলে জামায়াত জোট এত আসন কখনও পেত না ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে। দেশের সাধারণ জনগণের কাছে আজকে দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে গেছে যে, আওয়ামী লীগ বিএনপি দুটি দলই অসৎ। ওরা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে। এবং জনগণ লক্ষ্য করে দেখেছে। এই দুটি দল যখনই ক্ষমতায় আসে। তখনই সিন্ডিকেট বেড়ে যায়। এখানে ধনীরা আরো ধনী হয় আর গরিবেরা গরিবই রয়ে যায়। চলবে
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক