অথই নূরুল আমিন:
ডিপ স্টেট : ডিপ স্টেট হলো ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে গড়ে উঠা দেশী বিদেশী একধরনের শোষণ পার্টি ডিপ স্টেট নামে ক্ষমতার পালা বদল শোষণ পার্টি গুলো, শুধুমাত্র সেই সব অর্থনৈতিক দুর্বল দেশ গুলোতে গড়ে উঠতে পারে সক্রিয়ভাবে। অথবা জনগণের ভোটে যেসকল দেশে সরকার নির্বাচিত হয়।তার কারণ অর্থনৈতিক দুর্বল সরকার গুলো দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা পূরণে বারবার ব্যর্থ হয়। এছাড়া জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গুলো বারবার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ডিপ স্টেট কমিটির পছন্দের রাজনৈতিক দল অথবা রাজনৈতিক জোট ক্ষমতায়। এভাবেই বারবার ডিপ স্টেট নামের চাটুকার আপন স্বার্থলোভী শোষণ পার্টি তারা তাদের গোপন ক্ষমতার মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশের সরকার বদল করতে সাহায্য করে থাকে। ডিপ স্টেট তারা একসঙ্গে সরকারি দল এবং বিরোধী দল দুইটাই সৃষ্টি করে থাকে। ডিপ স্টেট কমিটির পক্ষ থেকে সরকারকে বলা হয়, সবসময় স্বৈরাচারী মনোভাব দেখাতে আর বিরোধী পার্টিকে ডিপ স্টেট কমিটি বারবার বলতে থাকে কঠিন আন্দোলন চালিয়ে যেতে । এভাবেই একটি দেশের সরকার দল আর বিরোধী দলের কঠিন কোন্দলের মাঝে। ডিপ স্টেট তাদের স্বার্থ হাসিল করতে থাকে। আর দেশের সাধারণ জনগণ সারাজীবন আশায় থাকে। আগের সরকার কিছু করেনি। নতুন সরকার হয় তো কিছু করবে। আসলে জনগণের আশা আর পূরণ হয় না।
আমাদের দেশে ডিপ স্টেট এর জন্ম হয় ১৯৭৫ সাল থেকে যখন দেশে চরম দূর্ভীক্ক চলছিল। ডিপ স্টেট যুগে যুগে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আর্বিভাব ঘটে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করার পিছনে যাদের সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ছিলো, ব্যক্তি বা দেশ।
ডিপ স্টেট পর্ব দুই।
ডিপ স্টেট কিন্তু এশিয়া মহাদেশে আছে তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য সহ অসংখ্য দেশে রয়েছে। তবে চীন জাপান জার্মান ফ্রান্সের মত অসংখ্য দেশে এগুলো ফালতু ডিপ স্টেট এর জন্ম হতে পারে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিন্তু ডিপ স্টেট সরকারের প্রেসিডেন্ট। এখানে বিশ্বের বড় বড় মোড়ল এবং গুগল ইনস্টাগ্রাম ফেসবুক এমনকি আলি বাবা ডটকমের মত পয়সা ওয়ালারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডোনার। চলমান যে যুদ্ধ চলছে। তাও একটি সক্রিয় ডিপ স্টেট ধারা পরিচালিত। এখানে এই যুদ্ধের মাঝেও এক শ্রেণির লোকদের মোটা অংকের আয় রয়েছে।
বাংলাদেশের বেলায় যদি বলি ৯১ তে যখন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। সেটাও কিন্তু চুক্তিবদ্ধ ডিপ স্টেট এজেন্ট এর মাধ্যমে। জরাজীর্ণ আওয়ামী লীগ বা ভাতে মরা আওয়ামী লীগ ৯৬ তে ক্ষমতায় এসেছিল প্রায় পঁচিশ বছর পরে। সেটা ডিপ স্টেট এজেন্ট এর সাথে চুক্তি করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। ডিপ স্টেট এর সাথে চুক্তি করে। অবশেষে ২০০৮ এ আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসেছিল ডিপ স্টেট এর অর্থায়নে। যার ফলে বিগত তিন যুগে দেশের পণ্যের মূল্য বেড়েছে তিনশ গুণ কোন কোন পণ্য হাজার গুণ ছাড়িয়ে গেছে। একই ডিপ স্টেট যখন আতিকুল আর তাপসকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র বানিয়ে দেয়। পাঁচ হাজার কোটি টাকা চুক্তি করে। তখন বিশেষ করে তাপস প্রায় পাগল হয়ে যায়। এই চুক্তির টাকা পরিশোধ করতে কবরস্থানে মরা মানুষ মাটি দিবে সেখানেও সে বিল বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৫ ই আগস্টের পর ইউনূস যে অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ সরকার প্রধান হয়েছিল। তাও সেটা বিশ লাখ কোটি ডলারের চুক্তির বিনিময়ে। যা পরিশোধ করতে ইউনূসের প্রায় আঠারো মাস সময় লেগেছে। যার ফলে ইউনূস এর আঠারো মাস বাংলাদেশ গভীর অন্ধকারে ছিলো। কোন কাজ হয়নি। ডিপ স্টেট পরিচালিত ইউনূস সরকার ছিলো বলেই। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে করা হয়েছিল। যে খলিলুর রহমান চুক্তির সমস্ত অর্থ তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। তবে যেসকল রাজনৈতিক দল যতবার ক্ষমতায় এসেছে। তারা কিন্তু সবসময় একটা মিথ্যা কথা বলে। আর সেটা হলো জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। বা জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। অথচ বেশিরভাগ কাজই দেখবেন লোক দেখানো। যেমন বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা টিসিবির পণ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা আইনের শাসন কায়েম করে না। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ খাওয়া বন্ধ করে না। ভূমি ওয়ালা আর ভূমিহীন আলাদা আদম শুমারী বা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে না। চলবে
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক