অথই নূরুল আমিন:
প্রায় বিশ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এরকম একটি এত বড় ঘটনা নিয়ে দেশের মানুষের কাছে বিএনপি নিয়ে যেন কোন স্বপ্নই দেখছে না। কোন আনন্দ নেই বললেই চলে। দেশের সিংহভাগ মানুষ মনেই করছে না যে বিএনপি একটি সরকার। সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী- এমপি আর সামান্য কিছু নেতাকর্মী ছাড়া। গত ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখ নির্বাচনে বিএনপি দুইশর বেশি আসন পেয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরও তাদের কোনো চমক জনগণ এখন পর্যন্ত দেখে নাই । জরাজীর্ণ এই জাতিকে সফলতা দেখানোর মত, এখন পর্যন্ত কোন বড় ভূমিকা তাদের মাঝে নেই। তারেক রহমানের উপদেষ্টাগণ সবাই যেন ভেড়ার পালের মত, গরুর পালের পিছন পিছন হাটছেন কোন অজানা গন্তব্যে যা আমার কাছে মনে হচ্ছে । এদিকে মন্ত্রী গুলো বেসামাল কথাবার্তা বলে অনেকেই সমাজে হাসির পাত্র হচ্ছেন প্রতিনিয়ত । এরই মধ্যে জ্বালানি সিন্ডিকেট গ্যাস সিন্ডিকেট হয়ে গেলো। এরই মধ্যে বাজেট ছাড়াই স্বঘোষিত কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেলো। এদিকে কোনরকম পূনর্বাসন প্রকল্প না করেই হকার উচ্ছেদ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মত ঘটনা ঘটে গেলো।
এই তো ১ জুলাই ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠালাম। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর । মনে হয় চিঠি খোলেও তিনি দেখেননি। এখানে কি লেখা আছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে। এরকম চিঠি খোলে পড়ার জন্য আসলে তিনি মুখ্য সচিব হননি। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব বলেন, প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টা বলেন, বা আরো যারা বড় কর্মকর্তা আছেন। এখানে থেকে তাদের কোন কাজ করতে হয়না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, এখানে কোনরকম জবাব দিহি নেই। এর প্রধান আরেকটি কারণ হচ্ছে। দেশের যত বদনাম যত অসুবিধা। সবকিছুর জন্য জনগণ একমাত্র দায়ী করবে প্রধানমন্ত্রীকে। আর প্রধানমন্ত্রী ভাবেন। আমার তো জনবল আছে। যেখানে যা লাগবে তারাই করবে। এখনেই কিন্তু বড় সমস্যাটা বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য।
বিএনপির কিন্তু লাখ লাখ নেতাকর্মী আছেন। তারা সবাই ভাবেন। যা করে কেন্দ্রীয় দপ্তর করবেন। প্রিয় পাঠক / পাঠিকাগণ, আপনারা অনেকেই অবগত আছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও আমি কিন্তু বেশ কয়েকটি কলাম লিখেছি। এবং তাদের কিছু লোক দেখানো কাজও উল্লেখ করেছি। যেমন ফ্যামেলি কার্ড। কৃষক কার্ড। হেলথ কার্ড। খাল খনন কর্মসূচি। আজকে কোথায় এই সব। নাই। কিছুই নাই। যেখানে একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থ সংকট। সেখানে একটি সরকারের মিথ্যা আশ্বাস দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে আমি মনে করি ।
বিএনপির দুইশর বেশি এমপি আছেন । এরপরও কোথাও কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। একটা সরকারের নিজস্ব আয় নেই, স্টকে টাকা নেই । ঋণ করে, হাওলাত করে। মিছামিছি বক্তব্য দিয়ে কয়দিন ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, যায় না। দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লক্ষ্য করে দেখবেন। মুখে তেমন হাসি নেই। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো তারেক রহমানের পাশে ভালো মানের যোগ্য, মেধাবী তেমন কোন লোক নেই। একজন রাজা বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন। একা কোন কিছু করা সম্ভব হয় না। যেসকল রাষ্ট্র নায়কেরা ভাগ্য গুণে খুব কাছে যোগ্য উপদেষ্টা, যোগ্য মন্ত্রী, যোগ্য কৌশলী পেয়েছেন। তিনিরা সৃষ্টি করতে পেরেছেন সুনাম ও ইতিহাস।
বতর্মান অর্থমন্ত্রী,পরিকল্পনা মন্ত্রী, সড়ক মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীসহ বেশকিছু মন্ত্রী তারা যেন জনগণের কাছে হাস্যকর মন্ত্রী হয়েছেন এরই মধ্যে । আর ডজন খানেক উপদেষ্টা। তাদের কে তো কেউ দেখছেই না। তারা যেন অহংকারেই দিশেহারা।
বিগত চারযুগের বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত একটি গুষ্ঠিকে আশাকরি তারেক রহমান আশার আলো দেখাবেন। প্রয়োজনে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে যাছাই বাছাই করে দেশের দক্ষ বুদ্ধিজীবী, মেধাবী লোকদেরকে দেশ উন্নয়ন, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা গুলো বাস্তবায়ন করতে দ্রুত আরো যোগ্য লোক নিয়োগ দিবেন। এই রইল প্রত্যাশা। কথা থাকে যে, বিএনপি সরকার যদি জনগণের আশা - আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। তাহলে বিরোধী দলের পক্ষ হয়ে ভূক্তভোগী জনগণ আন্দোলনে নামবে এই কথা কিন্তু সত্যি । সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যদি মধ্যবর্তী আরেকটি নির্বাচন বিএনপিকে দিতে হয়। তাহলে বিএনপির ভবিষ্যত বলতে কিছু থাকবে বলে আমার মনে তো হয়না।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উপদেষ্টা 02 গ্রন্থের লেখক।