বানারীপাড়া প্রতিনিধি :
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সোনাহার মাদ্রাসায় সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজেদের মনগড়া নিয়মে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা চলে যাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসার প্রতিটি শ্রেণির হাজিরা খাতায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীর নাম নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে ক্লাসরুমের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে অধিকাংশ ক্লাসে মাত্র ১ জন, ৩ জন কিংবা সর্বোচ্চ ৬ জন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। এমনকি দাখিল পরীক্ষায় ২৩ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকে মাত্র ১২ থেকে ১৩ জন। ভুয়া উপস্থিতির মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের এই অপচেষ্টায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাদ্রাসা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু রাখার বিধান থাকলেও সোনাহার মাদ্রাসার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দুপুর ২টার মধ্যেই মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে সকল শিক্ষক ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসার সহ সুপার মাহমুদ হাসানসহ ৬ জন শিক্ষক একটি (বৌ গাড়ি) করে মাদ্রাসা ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। এসময় তারা দাবি করেন, "আমরা সকাল ১০টায় শুরু করি এবং ২টা ৩০ মিনিটে ছুটি দেই।" অথচ ৪টা পর্যন্ত মাদ্রাসা খোলা রাখার সরকারি নির্দেশকে তারা পাত্তাই দিচ্ছেন না।
বর্তমান শিক্ষা প্রশাসন যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনতে বদ্ধপরিকর, ঠিক তখন সোনাহার মাদ্রাসার সুপার ও সহ-সুপারের এমন স্বেচ্ছাচারিতা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের মনগড়া নিয়মের কারণে ওই এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।এতে করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা বিমুখ হচ্ছে। অবিলম্বে এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।