নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর তুরাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্বাশত দত্তের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার এক আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জব্দের নামে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মোবাইল ফোন আত্মসাত করা হয়েছে ।
আর আছে একটা বাইক
রাজধানীর তুরাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্বাশত দত্তের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মামলার এক আসামি নুর আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আসামির স্ত্রী হিরা আক্তারের ফ্ল্যাট বাসা থেকে প্রায় ২০ থেকে ২২ ভরি স্বর্ণালংকার, আনুমানিক ৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং দুটি আইফোন ও মোটর সাইকেল জব্দের কথা বলে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে এসব জিনিসের কোনো বৈধ জব্দ তালিকা বা লিখিত হিসাব তাদের দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উত্তরা সেক্টর ৪ এলাকার রোড ১৫-এর একটি ফ্ল্যাটে একাধিকবার যাতায়াত করেন এসআই শ্বাশত দত্ত এবং প্রায় দেড় মাস ধরে ওই বাসার চাবি নিজের কাছে রাখেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারটি প্রশ্ন তুলেছে।
পরিবারের দাবি, দেড় মাস পর ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটের চাবি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও, সে সময় এসআই শ্বাশত দত্ত বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে তিনি হিরা আক্তারের কাবিননামা দেখতে চান, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের চাপে পড়ে পরে এড়িয়ে যান।
পরে সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটের লকার ভেঙে দেখা যায়, স্বর্ণালংকার রাখার বাক্স থাকলেও ভেতরে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি বলেও দাবি তাদের।
এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রিমান্ডের নামে আসামিকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাসার চাবি ও সম্পদের তথ্য নেওয়া হয়। এমনকি জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে আবার মামলা হালকে করে দেওয়ার নামে ছয় লক্ষ টাকা গোস দাবি করে
অফিসের মালামাল বিক্রি করে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা নেয়
এসআই শাশ্বত দপ্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং জব্দকৃত মালামাল ফেরতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।