জাকির হোসেন,বানারীপাড়া বরিশাল:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৪ নং চাখার ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন আগামী দিনের কাণ্ডারি? তবে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সুর অন্য বছরের তুলনায় ভিন্ন। সাধারণ মানুষ এখন আর গালভরা প্রতিশ্রুতিতে ভুলতে রাজি নয়; তারা চাচ্ছেন এমন একজন যোগ্য নেতৃত্ব, যার নিজস্ব স্বচ্ছলতা আছে এবং জনসেবার মানসিকতা রয়েছে।
চাদাবাজি ও সালিশ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনতা। স্থানীয় সচেতন ভোটারদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চাখার ইউনিয়নে একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি বিচার-সালিশের নামে চাদাবাজি ও গরিব-অসহায় মানুষের ওপর জুলুম চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের আয়ের প্রধান উৎসই হলো সালিশ বাণিজ্য। একে অপরের মধ্যে বিবাদ লাগিয়ে দিয়ে পকেট ভারী করা এসব ব্যক্তিদের সমাজের ‘কীট’ ও ‘আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করছেন সাধারণ মানুষ। ভোটাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সালিশ বাণিজ্য করে সংসার চালায়, তাদের থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ইউনিয়নবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান যার নিজের ‘পেটে ক্ষুধা নেই’, অর্থাৎ সরকারী বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। যিনি সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজস্ব তহবিল থেকেও এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। টিআর, কাবিখা বা ভিজিডির চালের মতো সরকারি ত্রাণের প্রতি যার কোনো মোহ নেই। দলীয় পদের অহংকার বা উগ্রতা থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের জন্য সর্বদা নিবেদিত থাকবেন। চাখার ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা বলেন, "আমরা উন্নয়নশীল ও সুন্দর একটি ইউনিয়ন গড়তে চাই। সালিশের নামে যারা পকেট কাটে বা উগ্র আচরণ করে, তাদের আর পরিষদে দেখতে চাই না। আমরা চাই একজন সৎ ও সাদা মনের মানুষ, যিনি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন।"
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জনমত ততই একজন নির্লোভ ও জনবান্ধব প্রার্থীর পক্ষে সুসংহত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, জনগণের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আসন্ন নির্বাচনে কতটা ঘটে