স্টাফ রিপোর্টার:
টাংগাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একজন সাধারণ পিয়ন গত ৬ বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার জীবনযাত্রার মান এবং অর্জিত সম্পদ দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত। দিগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস, হামিদপুর বাজার হতে ১০০০ গজ দূরে অবস্থিত এবং দিগড় ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা প্রদান করে থাকে।
সূত্র জানায়, মিজানুরের পরিবার তেমন স্বচ্ছল ছিলো না, তার বাবা (আজাহের) গ্রামগঞ্জে রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো, সহায় সম্ভলহীন অবস্থা ছিলো তাদের। মিজানুর বিয়ে করলে তাঁর বাবা বিষয়টি মেনে নেয়নি বরং মিজানুরকে তাঁর বাবা বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে মিজানুর ঘর জামাই হয়ে শশুর বাড়ি থেকে যায়। বিয়ের বয়স প্রায় ১২/১৩ বছর। মিজানুরের শশুর (মজিদ) এর অবস্থাও তেমন স্বচ্ছল ছিলো না, ঐ সময় তাদেরও অর্থ সম্পদ তেমন ছিলো না। হঠাৎ করেই 'দিগড় ভূমি অফিসের পিয়নের আলাদিনের চেরাগ: ৬ বছরেই কোটিপতি!' সূত্র আরো জানায়, মিজানুরের শশুর বাড়ির এলাকা (বাইচাইল) থেকে নজরুল মিয়া, মুহাম্মদ ম্যাম্বারের ছেলে হায়দার মিয়ার কাছ থেকে বায়না করে। কিন্তু হায়দার মিয়া নজরল মিয়ার সাথে এই ব্যাপারে ৫/৬ মাস ঘরিমসি করে সময় নষ্ট করে যার দরুণ এই জমি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। তখন তাদের এই দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হায়দার মিয়ার কাছ থেকে মিজানুর ৬ শতাংশ জমি চড়া দামে ক্রয় করে। ৬ শতাংশ জমি ১৮ লাখ টাকায় (প্রতি শতাংশ ৩ লাখ টাকা) ক্রয় করে। সেখানে ৫ তলা ফাউন্ডেশন তুলেছে, ১তলা বিল্ডিং এর ছাদ ঢালাই করতেই ২৬ লাখ টাকার উপরে খরচ হইছে এবং মিজানুরের বাবা (আজাহের) সেখানে দিন মজুরি হিসেবে কাজ করতেছে বলে জানা যায়।
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন বা অফিস সহায়ক (২০তম গ্রেড) পদের বর্তমান শুরুতে মাসিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা।
বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে তাদের বর্তমান মাসিক মোট বেতন সাধারণত ১৩,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকার বেশি হয়।
৬ বছরের মোট বেতনের একটি আনুমানিক হিসাব:
মাসিক বেতন (আনুমানিক): ১৫,০০০ টাকা (ভাতা সহ)
১ বছরের বেতন: ১৫,০০০ টাকা × ১২ মাস = ১,৮০,০০০ টাকা
৬ বছরের বেতন: ১,৮০,০০০ টাকা × ৬ বছর = ১০,৮০,০০০ টাকা (দশ লক্ষ আশি হাজার টাকা)।
ভূমি অফিসের পিয়ন মিজানুরের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।