জাকির হোসেন, বানারীপাড়া:
বরিশালের বানারীপাড়ার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাত বছরের শিশুসন্তান জিসান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ঝড়ের সময় সোনাহার গ্রামের রংমিস্ত্রি সোহেল মিয়ার বসত ঘরের ওপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেলের স্ত্রী ইয়াসমিন প্রাণ হারান। এ সময় তাদের একমাত্র সন্তান জিসান গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং সরকারী তহবিল হতেন১৫ হাজার টাকা ও দুই প্যাকেট শুকনো খাবার সহায়তা হিসেবে প্রদান করেন। সরকারিভাবে আরও সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে ঐতিহ্যবাহী চাখার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রভাবশালী নেতা থাকলেও এই অসহায় পরিবারটির পাশে এখন পর্যন্ত তেমন কাউকে দেখা যায়নি। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে চাখার ইউনিয়নে ১১ থেকে ১২ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালালেও এখন পর্যন্ত মাত্র একজন প্রার্থী ফোন করে পরিবারটির খোঁজ নিয়েছেন। বাকিদের নিরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
রংমিস্ত্রি সোহেলের পক্ষে তার সন্তানের চিকিৎসার বিশাল ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ও আশ্রয় হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। একদিকে স্ত্রীর শোক, অন্যদিকে সন্তানের জীবন বাঁচানোর লড়াই—সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যে চলে গেছে তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক চিকিৎসায় হয়তো বেঁচে ফিরতে পারে ছোট্ট জিসান। তাই সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক বোধসম্পন্ন সকল মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে—আসুন, সামর্থ্য অনুযায়ী এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সহায়তা একটি শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এবং একটি পরিবারকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।
সোনাহারের এই আর্তনাদে সাড়া দিয়ে মানবতার জয় হোক, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।