স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নূরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের উপ-পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
নূরজাহান বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তার একমাত্র কন্যা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা রাজধানীর মিরপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডা প্রবাসী বলে জানা গেছে। তার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি সমাজে পারিবারিক দায়িত্ববোধ, বয়স্কদের প্রতি সন্তানের কর্তব্য এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পেশাগত সাফল্য একজন মানুষের বাহ্যিক পরিচয় তৈরি করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধই একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে— এমন মন্তব্য করছেন অনেকেই।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক বাবা-মাকে নিঃসঙ্গতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নূরজাহান বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।