অথই নূরুল আমিন:
২০২৬ জুন থেকে ২০২৭ এর জুন পর্যন্ত মাত্র ৩৬৫ দিনের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপি সরকার। এতে করে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে সীমাহীন। দেশের ৬০- ৬৫% নিম্ন আয়ের জনগণের নাকের আগায় দম আসা যাওয়া করবে। দেশের ৩০% নাগরিক ঋণখেলাপি হয়ে যাবে। চড়া মূল্যে পণ্য কিনতে কিনতে। তবে এখানে সবচেয়ে বড়ো লাভবান হবে দেশের শিল্পপতিরা বিশেষ করে যারা সিন্ডিকেট ব্যবসায় জড়িত অথবা যারা আমদানি রফতানি ব্যবসায় জড়িত। আর অন্য দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের মালিকগণসহ অন্যান্য জনবল বিশেষ করে যারা তদবির বাণিজ্য বা দালালী পেশায় পটু।
প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বতর্মান সরকার। এখানে ২৫% হচ্ছে বিদেশী ঋণের কিস্তি। ২৫% হচ্ছে জন প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের বেতন ভাতা। ১৫% ভুর্তকিও দান অনুদান। ৩০% অর্থ যাবে উন্নয়ন প্রকল্পে।৫% অর্থ খরচ হবে দেশি বিদেশি মেহমান আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
দেশের তিন কোটি জনগণ বেকার আছে। এর মধ্যে যারা কর্ম করছেন। তাদেরও কিন্তু আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। এতো বড়ো বিগ বাজেট সরকার করার পরেও কিন্তু বেকার কমানোর উদ্যোগ সরকারের নেই। পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নেই। তাহলে তো বাজেট মানেই জনগগকে শোষণ করা। কথা থাকে যে এরই মধ্যে যেসকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তা কি শুরু জনগণ ক্রয় করছে। যারা বিএনপির ভোটার সমর্থক নেতা বা কর্মীরা কি তা কিনছে না? অবশ্যই কিনছে। এরকম হলে একসময় ভক্ত সমর্থকরা মন খারাপ করে। দলের সমর্থন থেকে সরে যায়। তখনই দলের শক্তি কমে আসে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিত্য পণ্যের মূল্য ছিলো আকাশ ছোয়া। তাই তাদের পতনের সময় জনগণ এগিয়ে আসেনি।
বিএনপি প্রায় সতেরো বছর পর ক্ষমতায় এসেছে। তাই তাদের সরকারের নতুন অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিলো। যেমন আগামী পাঁচ বছর সরকারি কর্মকর্তাদের কোনরকম বেতন বাড়বে না। বিশেষ কারণ ছাড়া পণ্যের মূল্য বাড়বে না। ইন্টারনেটের যুগে বেশকিছু মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর বন্ধ করার দরকার ছিলো। ৬০ বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক সরকারি কর্মকর্তাদেরকে বাধ্যতা মূলক অবসরে পাঠানোসহ নানাবিধ উদ্যোগ না নিয়ে সরাসরি বাজেট বৃদ্ধি করে দিয়ে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পরামর্শ কে দিয়েছে জানিনা।
বিএনপি সরকারের উচিৎ ছিলো ছয় থেকে সাত লাখ কোটি টাকা বাজেটের আকার। দরকার ছিলো বেকারত্ব কমিয়ে আনার জন্য মোট অংকের অর্থ বরাদ্দ। সেই পুরোনো কায়দায় জনগণ শোষণ করার সরকার কখনও জনগণের প্রিয় হতে পারবে না।
এরকম বাজেটের খবর শুনে জামায়াত লোক দেখানো মিছিল বের করেছে পুলিশ পাহারার মাধ্যমে। বিরোধী দল হিসাবে যা পূর্বে করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ বুঝে গেছে। জামায়াত এনসিপি যে সরকারের গৃহ পালিত বিরোধী দল এটা বুঝার বাকি নেই কারো। আওয়ামী লীগ আমলে যেমন জাতীয় পার্টি ছিলো গৃহ পালিত।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক