বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল পালের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,তিনি নিয়মিত অফিস সময় মেনে চলেন না এবং নিজের সুবিধামতো কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানান,সরকারি চাকরির বিধি-বিধান ও শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি,বিগত সরকারের আমলে প্রায় এক দশক একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে তিনি পুনরায় ওই ইউনিয়ন পরিষদেই যোগদান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল পালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,গত ১০ কার্যদিবস ধরে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় একাধিকবার তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত অবস্থায় দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি,এ সংক্রান্ত ভিডিওচিত্রও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রভাবশালী মহলের সমর্থনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,“সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকলকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সিলেট নিউজ/এসডি.