ছাতক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোয়ালগাঁও–আমবাড়ি সড়কে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছাতক–কোম্পানীগঞ্জ (গোয়ালগাঁও–আমবাড়ি) সেতু এবং ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গণেশপুর আপ্তরখাল সেতুর সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ) নিচু করে নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে তা দ্রুত উঁচু ও প্রশস্ত করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সংযোগ সড়কের কিছু অংশ সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই তলিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বা বন্যার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় আরও প্রায় দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে পুরো সংযোগ সড়ক পানির নিচে চলে যাবে। এতে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও নির্মাণাধীন এই দুটি সেতু বর্ষা মৌসুমে কার্যত অকেজো হয়ে পড়বে এবং জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলো যাতে কার্যকর থাকে, সেজন্য নির্মাণাধীন সংযোগ সড়কের প্রাক্কলন সংশোধন করে বর্তমান লেভেল থেকে অন্তত ২ মিটার উঁচু ও প্রশস্ত করে নির্মাণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্মাণকাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বন্ধ করে নির্ধারিত মানসম্পন্ন পাথর ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসান, ভিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাজমুল হাসান জুয়েল এবং সমাজকর্মী হাফিজ সোহেল আহমদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক, ব্যবসায়ী ফরিদ আহমদ, নুরুল হক, ইমতিয়াজ তপু, জানে আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিকল্পনাগত ত্রুটির কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য অবিলম্বে সংযোগ সড়কের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রশস্তকরণ এবং নির্মাণকাজে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিপুল অর্থে নির্মিত দুটি সেতুর কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।