
শামীম আহমদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগের প্রতিবাদে জৈন্তাপুরে বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক |
জৈন্তাপুরে পিকআপচালক মো. শামীম আহমদের ওপর হামলা, মারধর, চাঁদাবাজি ও নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় যুব সমাজ, ছাত্রসমাজ, শ্রমিক ও এলাকাবাসী।
রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার ৪ নম্বর বাংলা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, যুবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ৪ নম্বর বাংলা বাজারের সভাপতি সুলেমান কন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজাদুর রহমান আজাদ, ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন দনই, ট্রাক শ্রমিক মঈনউদ্দীন ও রুবেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মো. শামীম আহমদের ওপর হামলা, মারধর, চাঁদাবাজি এবং ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জানমাল ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন মেম্বারের নেতৃত্বে তার ছেলে দুলাল আহমেদ এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, দুলাল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ও পিকআপচালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। এছাড়া তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, এসব অভিযোগের কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, মো. শামীম আহমদ জৈন্তাপুর মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৬ জুন ভোরে রাংপানি এলাকায় তার চালিত ডিআই পিকআপের গতিরোধ করে একদল ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে জালাল উদ্দীন মেম্বার বা দুলাল আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।