বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকার গাবতলীর আহমেদ নগর ও হাড্ডি পট্টি এলাকা বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অবাধে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়েও তারা যেন এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, গাবতলীর আহমেদ নগরের হাড্ডি পট্টি এলাকাটি মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এলাকাটি মাদকের জমজমাট আসরে রূপ নেয়। ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেখানে প্রকাশ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার উঠতি বয়সী যুবক ও কিশোররা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবাদ করলেই মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। এলাকাটি এখন মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসনকে জানালেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না, অথবা নিলেও মাদক ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ব্যবসা শুরু করে।"
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের অনেকের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা রয়েছে, যার ফলে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও মূল হোতারা সব সময় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক কারবারিদের এমন দাপটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দারুসসালাম থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, মাদক নির্মূলে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মাদকের কুফল ও এর ভয়াবহতা রোধে কেবল পুলিশের একার পক্ষে সব সময় সফল হওয়া কঠিন। এর জন্য এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সঠিক তথ্য প্রদান জরুরি।
সুধী মহলের মতে, গাবতলী ও আহমেদ নগর এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে হলে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা অপরিহার্য। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই এলাকাটি একটি স্থায়ী অপরাধের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।